মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ): গত বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সন্তান নূরুল মোবাশ্বেরের পোস্ট করা একটি বার্তা স্থানীয় সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফেসবুকে কুলিয়ারচর পৌর এলাকার খরকমারা গ্রামের নূরুল আবরারের ছেলে নূরুল মোবাশ্বেরের দেওয়া ওই আবেগঘন বার্তায় তিনি কুলিয়ারচরবাসীর প্রতি তাঁদের পরিবারের ওপর দীর্ঘদিনের বিশ্বাস ও ভালোবাসার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি পরিবারের এই ঐতিহ্যবাহী সেবার ধারা অব্যাহত রাখতে তাঁর চাচা, কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির প্রয়াত সভাপতি, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, কুলিয়ারচর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও কুলিয়ারচর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম নূরুল মিল্লাতের সন্তান নূরুল ইশরাককে কুলিয়ারচর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে সুযোগ দেওয়ার জন্য কুলিয়ারচরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
নূরুল মোবাশ্বেরের বার্তা থেকে জানা যায়, কুলিয়ারচরের জনপ্রতিনিধিত্ব ও জনসেবায় এই পরিবারের ভূমিকা প্রায় এক শতাব্দীর পুরোনো।
পরিবারের রূপকার মরহুম আব্দুস সবুর সাহেব ১৯২১ সালে কুলিয়ারচর লোকাল বোর্ডের প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
তাঁর সুযোগ্য সন্তান মরহুম এএফএম নূরুল্লাহ সাহেব ১৯২৯ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত টানা চার দশকেরও বেশি সময় কুলিয়ারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তী প্রজন্মে মরহুম এএফএম নূরুল্লাহ সাহেবের ষষ্ঠ সন্তান মরহুম নূরুল মিল্লাত সাহেব ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় কুলিয়ারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ইউনিয়ন পরিষদ পৌরসভায় রূপান্তরিত হওয়ার পর ২০০৫ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত পৌরসভার চেয়ারম্যান/মেয়র এবং সর্বশেষ ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়া মরহুম এএফএম নূরুল্লাহ সাহেবের তৃতীয় সন্তান মরহুম নূরুল কাদের কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদের প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন।
ফেসবুক পোস্টে নূরুল মোবাশ্বের উল্লেখ করেন, আমাদের পরিবারের সুসময় ও দুঃসময়ে আপনারা সবসময় পাশে ছিলেন। আপনারা যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তার ঋণ পরিশোধ করার সামর্থ্য আমাদের নেই।
পরিবারের সাবেক সকল জননেতা আজ পরলোকে গমন করায় তিনি গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগ প্রকাশ করে বলেন, পরিবারের ঐতিহ্য ও সেবা অক্ষুণ্ণ রাখতে এবার তরুণ প্রতিনিধি, তাঁর চাচাতো ভাই নূরুল ইশরাককে কুলিয়ারচর পৌরসভার মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করে জনগণের পাশে থাকার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। কুলিয়ারচরের সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে নূরুল ইশরাক তাঁর পূর্বসূরিদের মতো সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাবেন বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্ট্যাটাসটি প্রকাশের পর কুলিয়ারচরের বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে একটি ঐতিহ্যবাহী পরিবারের নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন।

