সর্বশেষ :
20 Oct 2026, Tue

আইন অমান্য আর নৈরাজ্যের খেসারত: ১৭ মাসে ১৩,৪০৯ জনের মৃত্যু

আইন অমান্য আর নৈরাজ্যের খেসারত: ১৭ মাসে ১৩,৪০৯ জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি: দুর্ঘটনামুক্ত সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের ১৭ মাসে সারা দেশে সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথে সংঘটিত দুর্ঘটনায় মোট ১৩ হাজার ৪০৯ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক প্রতিবেদন পাঠ ও সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সেভ দ্য রোড-এর মহাসচিব শান্তা ফারজানা।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সড়কপথে চরম নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলা ও আইন অমান্য করে যান চলাচলের কারণে ছোট-বড় মোট ৫৭ হাজার ৭৯৬টি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৫৮ হাজার ৪৯১ জন এবং নিহত হয়েছেন ১২ হাজার ৬৯৪ জন।

এই ১৭ মাসে সড়কে নেমেছে প্রায় ২ লাখের বেশি মোটরসাইকেল ও ৫ লাখের বেশি অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা। ঢাকাসহ সারাদেশে ১৩ হাজার ৮২৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৩ হাজার ৮৩২ জন এবং নিহত হয়েছেন ২ হাজার ৬৩৮ জন।

এছাড়া উল্টোপথে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, নসিমন, করিমন ও পিকআপসহ এ ধরনের যানবাহনে সংঘটিত ২১ হাজার ৬৩১টি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৩ হাজার ৬০৩ জন এবং নিহত হয়েছেন ৩ হাজার ৬৪৮ জন।

নির্ধারিত গতিসীমা না মানা, বিশ্রাম না নিয়ে টানা ১২ থেকে ২০ ঘণ্টা যানবাহন চালানো ও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের কারণে ১২ হাজার ৭৪৬টি বাস দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ১১ হাজার ৬৯৭ জন এবং নিহত হয়েছেন ৩ হাজার ৭৮৪ জন।

ট্রাক ও লরিসহ ভারী মালবাহী যানবাহনে দ্রুতগতি ও অতিরিক্ত মালামাল বহনের কারণে সংঘটিত ৮ হাজার ৯৬৮টি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৯ হাজার ৩৫৯ জন এবং নিহত হয়েছেন ২ হাজার ৬২৪ জন, যাদের অধিকাংশই পথচারী বা স্থানীয় বাসিন্দা।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, সেভ দ্য রোড-এর চেয়ারম্যান মো. আখতারুজ্জামান, প্রতিষ্ঠাতা ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী, মহাসচিব শান্তা ফারজানা, ভাইস চেয়ারম্যান বিকাশ রায় ও সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মহিদুল মল্লিকসহ গবেষণা সেল সদস্যদের তত্ত্বাবধানে ১৭টি জাতীয় দৈনিক, ২০টি টিভি চ্যানেল, ২২টি নিউজ পোর্টাল এবং স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বেচ্ছাসেবকদের তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

সেভ দ্য রোড-এর দাবি অনুযায়ী, প্রতি ৩ কিলোমিটারে পুলিশ বুথ বা ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন না করা এবং হাইওয়ে পুলিশসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রশাসনের দায়িত্বে অবহেলার কারণে গত ১৭ মাসে সড়কপথে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে ৪১১টি। এতে আহত হয়েছেন ২৫৭ জন এবং নিহত হয়েছেন ২ জন।

এছাড়া নৌ, সড়ক ও রেলপথে নারী শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে ৮২৫টি এবং ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ১৫টি। অধিকাংশ ঘটনাই থানায় রিপোর্ট করা হয়নি বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বেচ্ছাসেবকদের তথ্যে উঠে এসেছে।

নৌপথে কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশের দায়িত্বে অবহেলার সুযোগে ডাকাতির ঘটনাও বেড়েছে। ২১৬টি ডাকাতির ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৮৮ জন এবং নিহত হয়েছেন ১ জন। একই সময়ে সড়ক, রেল ও নৌপথে ১৭ হাজার ৪১২টির বেশি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, উক্ত সময়ে নৌপথে ২ হাজার ৫২টি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ১ হাজার ৭৫৪ জন, নিহত হয়েছেন ১৮৭ জন এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৪৬ জন। রেলপথে ১ হাজার ১০৬টি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ১ হাজার ৭৬ জন এবং নিহত হয়েছেন ৪৯২ জন। আকাশপথে একটি দুর্ঘটনায় নিহত হন ৩৬ জন এবং আহত হন ১৭২ জন। এছাড়া বিমানবন্দরে কর্মরতদের দ্বারা হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৭ জন।

সংবাদ সম্মেলনে সেভ দ্য রোড-এর ৭ দফা দাবিও তুলে ধরা হয়, যার মধ্যে রয়েছে—দুর্ঘটনামুক্ত পথ দিবস ঘোষণা, প্রতি ৩ কিলোমিটারে পুলিশ বুথ স্থাপন, ট্রান্সপোর্ট পুলিশ ব্যাটালিয়ন গঠন, নিহত ও আহতদের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং পরিবহন খাতে দুর্নীতি প্রতিরোধ।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সেভ দ্য রোড-এর চেয়ারম্যান মো. আখতারুজ্জামান, প্রতিষ্ঠাতা ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী, মহাসচিব শান্তা ফারজানা, ভাইস চেয়ারম্যান বিকাশ রায়, সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি, সমাজসেবী আনিসুর রহমান মাস্টার ও সাংগঠনিক সম্পাদক মহিদুল মল্লিকসহ অন্যান্যরা।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *