ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র প্রায় ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সামাল বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সরাইল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ নভেম্বর ২০২৫ খ্রি. থেকে ১ মার্চ ২০২৬ খ্রি. পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে প্রতারক চক্রটি ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মোট প্রায় ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এ ঘটনায় সরাইল থানার মামলা নং-২২, তারিখ ১৫ মার্চ ২০২৬ খ্রি., সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ২২ ধারায় দায়ের করা হয়।
পরবর্তীতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন এসআই (নি.) মো. শাহাদাত হোসেন।
তদন্তের অংশ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পিবিআই গত ১ মে ২০২৬ খ্রি. ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভাদুঘর গ্যাসফিল্ড সংলগ্ন এলাকা থেকে প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য স্বপন কুমার রায়কে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
পিবিআইয়ের তদন্ত ও আসামির জবানবন্দি থেকে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত স্বপন কুমার রায় নীলফামারী জেলার জলঢাকা থানার দিয়াবাড়ি বাজারে ‘উৎসব ফার্মেসি’ নামক একটি দোকানের মালিক। তিনি প্রতারক চক্রের একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করতেন।
তিনি তার পরিচিত স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কলেজ শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম আতিকীসহ আরও কয়েকজনের নামে কৌশলে তিনটি বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলেন এবং সংশ্লিষ্ট সিম কার্ডগুলো নিজের হেফাজতে রেখে প্রতারণার অর্থ গ্রহণ করতেন।
প্রাথমিকভাবে এসব মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মোট ২৯ লাখ ৩২ হাজার ১৪১ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে, যা পরবর্তীতে তার সহযোগী পলাতক আসামিদের মাধ্যমে নগদায়ন করে আত্মসাৎ করা হয়।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক সদস্যদের গ্রেফতারে পিবিআইয়ের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।

