বেলাল আহমদ, লামা (বান্দরবান): বান্দরবানের লামা উপজেলায় পরিবেশ আইন তোয়াক্কা না করে আমেরিকাপ্রবাসী আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার বাগানে দেদারসে কাটা হচ্ছে পাহাড়। উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মুসা কলিমউল্লাহ কিসলুর বাগানে এস্কেভেটর (মাটি কাটার ভেকু মেশিন) দিয়ে অবৈধভাবে পাহাড় কেটে সাবাড় করা হয়েছে। পাহাড় কেটে বিশাল এই এলাকাজুড়ে প্রস্তুত করা হয়েছে যাতায়াতের রাস্তা।
মুসা কলিমউল্লাহ কিসলু বলেন, বাগানের যাতায়াতের জন্য রাস্তা ও মাছের প্রজেক্টের জন্য বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। ইটভাটায় অবাধে পাহাড় কাটা হচ্ছে, কোনো সমস্যা হয় না।” তার পাশে থাকা সাবেক যুবদল ও বর্তমান ইউনিয়ন বিএনপি নেতা শাহেদ বলেন, “এমপি (সাচিং প্রু জেরি)কে ফোন লাগাও, এত ঝামেলা মাথায় নিতে পারব না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সবুজ পাহাড়ের বুক চিরে এস্কেভেটর দিয়ে মাটি উপড়ে ফেলে বিশাল রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। পাহাড় কাটার ফলে আশপাশের পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই কেটে রাখা পাহাড়ের মাটি ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিবেশ অধিদপ্তরের নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ। কোনো প্রকার প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই এই পাহাড় কাটার মহোৎসব চালানো হয়েছে। পাহাড়ি অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করে এভাবে রাস্তা তৈরি ও বাঁধ নির্মাণ করায় একদিকে যেমন বনায়ন ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে জীববৈচিত্র্য চরম সংকটে পড়ছে।
প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং পাহাড়ধসের মতো ভয়াবহ বিপর্যয় এড়াতে এই অবৈধ পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
উল্লেখ্য, ১৮ মে দৈনিক ভোরের ডাক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের জেরে লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁশখাইল্ল্যা ঝিরি এলাকায় পাহাড় কাটার অভিযোগে লোকমান নামে এক ব্যক্তিকে ৬ মাসের সাজা প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ১৯ মে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন এই সাজা প্রদান করেন।
লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন জানান, পরিবেশ ধ্বংসকারী পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশ ধ্বংসকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

