সর্বশেষ :
20 Oct 2026, Tue

মবের মাস্তি থেকে ব্যাক গিয়ারে মাহফুজ

মবের মাস্তি থেকে ব্যাক গিয়ারে মাহফুজ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যত বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। এক দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে তিনি আক্ষেপ করে লিখেছেন- লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে…। পোস্ট পড়ে মনে হলো, মানুষটি যেন দীর্ঘদিন পর আয়নায় নিজের ঘরটা প্রথমবার দেখলেন।

অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে, তিনি যেসব ঘটনার কথা লিখেছেন- মাজারে হামলা, মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ভাঙা, মিডিয়ায় হামলা, উগ্রবাদীদের উত্থান, মব সংস্কৃতি, ভিন্নমত দমন, এগুলোর প্রায় সবই ঘটেছে সেই সময়, যখন দেশে অন্তর্বর্তী সরকার ছিল, প্রশাসন ছিল, উপদেষ্টা পরিষদ ছিল, ক্ষমতার চেয়ার ছিল। শুধু দায় নেওয়ার মানুষ ছিল না।

দেশের মানুষ তখন দেখেছে, একদল লোক মাজারে আগুন দিচ্ছে, আরেকদল সেটা ‘জনতার আবেগ’ বলে চালিয়ে দিচ্ছে। একজন সাংবাদিক পেটানো হচ্ছে, আর ফেসবুকে কেউ কেউ হাসির রিঅ্যাক্ট দিচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ভাঙা হচ্ছে, আর ব্যাখ্যা আসছে ‘এগুলো জনগণের ক্ষোভ।’
তখন মনে হচ্ছিল- দেশটা সরকার নয়, ফেসবুকের কমেন্ট দিয়েই চলছে।

মাহফুজ আলম এখন লিখছেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে…’। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরেছে কি না, সেটা আলাদা বিতর্ক। কিন্তু তারা ফিরে আসার মতো পরিবেশ কে বানিয়ে দিল, সেটাই আসল প্রশ্ন।

যখন উগ্রবাদীরা বুক ফুলিয়ে হাঁটছিল, যখন ‘মব’ শব্দটা অপরাধ না হয়ে বিনোদনে পরিণত হচ্ছিল, যখন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আক্রমণের পরও রাষ্ট্রের কণ্ঠে দৃঢ়তা ছিল না, তখনই তো মানুষ ভয় পেতে শুরু করেছিল।

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ খুব জটিল কিছু চায় না। শুধু চায়- রাতে ঘুমাতে গেলে সকালে ঘরটা পুড়ে যাবে না। মাজারে গেলে মার খেতে হবে না। ভিন্নমত দিলে ‘দালাল’ তকমা লাগবে না। রাষ্ট্র অন্তত দর্শকের ভূমিকায় থাকবে না।

কিন্তু সেই সময় অনেকেই বিপ্লবকে এমন এক খেলায় পরিণত করেছিলেন, যেখানে প্রতিপক্ষকে অপমান করাই ছিল সবচেয়ে বড় আদর্শ। বামপন্থী মার খেলে তালি, সাংবাদিক পেটালে উল্লাস, কারও ঘরে আগুন লাগলে মন্তব্য ‘ওরা তো ফ্যাসিস্টের দালাল!’

ইতিহাসের সবচেয়ে নির্মম রসিকতা সম্ভবত এখানেই যারা আগুনের পাশে দাঁড়িয়ে হাত সেঁকেছিল, তারাই এখন ধোঁয়া দেখে আতঙ্কিত।

মাহফুজ আলম-এর পোস্ট তাই শুধু রাজনৈতিক আত্মসমালোচনা নয়। এটা অনেকটা এমন এক ড্রাইভারের স্বীকারোক্তি, যিনি বাস খাদে ফেলার পর যাত্রীদের বলছেন ‘রাস্তাটা কিন্তু খুবই বিপজ্জনক ছিল।’

রাজীবুল হাসান
ইনচার্জ, কালের কণ্ঠ মাল্টিমিডিয়া।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *