মনিরুল ইসলাম ডাবলু, নলডাঙ্গা (নাটোর): চাল উৎপাদনে শতভাগ ফ্রেশনেস নিশ্চিত করে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মাঝে সাড়া ফেলেছে উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী নাটোরের কৃষির অপার সম্ভাবনাময় হালতিবিল এলাকার ধানচাষিদের জন্য গড়ে ওঠা খান রাইস প্রসেসিং প্ল্যান্ট। নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার বিপ্রবেলঘড়িয়া ইউনিয়নের ত্রিমোহনী এলাকার প্রধান সড়কের পাশেই এই রাইস প্রসেসিং প্ল্যান্টটি অবস্থিত।
ঢাকার বিখ্যাত রিয়েল এস্টেট ও কনস্ট্রাকশন প্রতিষ্ঠান টার্ন গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান খান রাইস প্রসেসিং প্ল্যান্ট।
এটি ২০১৮ সালে প্রথম সোর্টিং মিল হিসেবে চালু করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে ৪০০ মণ ধারণক্ষমতা নিয়ে এটি অটো রাইস মিলে রূপান্তর করা হয়। সর্বশেষ ২০২৫ সালে সব ধরনের আধুনিকায়ন সম্পন্ন করে বর্তমানে ১ হাজার ৬০০ মণ ধারণক্ষমতা নিয়ে এই রাইস প্রসেসিং প্ল্যান্ট পরিচালিত হচ্ছে।
এখানে নলডাঙ্গা উপজেলার হালতিবিল এলাকা ও আশপাশের কৃষকদের একটি বড় জনগোষ্ঠী সরাসরি এই প্ল্যান্টের মাধ্যমে তাদের উৎপাদিত ধান থেকে চাল প্রসেসিংয়ের সুবিধা ভোগ করছেন।
এ ছাড়া খান রাইস প্রসেসিং প্ল্যান্ট সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করে নিজেদের ব্র্যান্ড নামে চাল প্যাকেটজাত করছে, যা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে চাল ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে।
শুধু খান রাইস প্রসেসিং প্ল্যান্টের নিজস্ব ব্র্যান্ডেই সীমাবদ্ধ নয়, দূর-দূরান্ত থেকেও চাল ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন নামে ধান থেকে সরাসরি চাল প্রসেসিং ও প্যাকেটজাত করে নিচ্ছেন। কোনো ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার ছাড়াই এখানে কৃষকদের উৎপাদিত ধান থেকে ফ্রেশ চাল প্রসেসিং করা হয়।
নলডাঙ্গা উপজেলায় একমাত্র খান রাইস প্রসেসিং প্ল্যান্ট স্থাপিত হয়েছে, যেখানে প্রায় দেড়শ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রায় ১ থেকে দেড় হাজার কৃষক ও ব্যবসায়ী এই মিলের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।
এ ছাড়া এই খান রাইস প্রসেসিং প্ল্যান্টে চাল প্রসেসিংয়ের পাশাপাশি হাঁস-মুরগির ফিড ও মাছের ফিডও প্রস্তুত করা হচ্ছে, যা বিভিন্ন ব্র্যান্ড নামে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।
প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর এলাকা নিয়ে হালতিবিলের অবস্থান, যার প্রধান ফসল ধান। এই ধান কৃষকের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। এবার হালতিবিলের ধান থেকে নিজস্ব তত্ত্বাবধানে প্রাকৃতিকভাবে বাড়তি পলিশ ছাড়াই বাণিজ্যিকভাবে চাল উৎপাদন করছে নলডাঙ্গার বিপ্রবেলঘড়িয়ায় অবস্থিত খান রাইস প্রসেসিং প্ল্যান্ট।
এ ছাড়া এখানে মনোরম পরিবেশ, নিজস্ব হাঁসের খামার, আম, আঙুর, লেবুসহ বিভিন্ন ফল ও ফুলের বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। দূর থেকে আগত ক্রেতাদের নিরাপত্তা, থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।
খান রাইস প্রসেসিং প্ল্যান্টের সিইও মো. মানিকুজ্জামান খান বলেন, নাটোর জেলার নলডাঙ্গায় আমরাই প্রথম এই রাইস প্রসেসিং প্ল্যান্ট গড়ে তুলেছি। এর মাধ্যমে প্রসেসিং করা চাল নাটোর, রাজশাহী, বগুড়া, নওগাঁসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করতে সক্ষম হয়েছি। ভবিষ্যতে এই প্ল্যান্টে উৎপাদিত চাল আন্তর্জাতিক বাজারেও সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের এই প্ল্যান্টে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে কেমিক্যালমুক্ত চাল উৎপাদন করা হয়। এই চাল অত্যন্ত সুস্বাদু ও ফাইবারসমৃদ্ধ হওয়ায় ভোক্তাপর্যায়ে সুনাম অর্জন করছে। সততা, দায়িত্বশীলতা, শতভাগ পরিচ্ছন্নতা ও ফ্রেশনেস বজায় রেখে আমরা ক্রেতাদের আস্থা অর্জনে বদ্ধপরিকর।

