সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

আদিবাসী ও বাস্তবতা (দ্বিতীয় পর্ব)

পাপুয়া নিউ গিনি: মুসলিম জনগোষ্ঠির অবস্থা

লেখক:
মুহাম্মদ রাশেদ খান
সহযোগী সম্পাদক
মাসিক ইতিহাস অন্বেষা

ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী ১৮৬০ সালে অখণ্ড চট্টগ্রামকে বিভক্ত করে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম’ নামে একটি পৃথক প্রশাসনিক জেলা গঠন করে। ১৮৮১ সালে পুলিশ অ্যাক্ট প্রণয়নের মাধ্যমে ‘উপজাতীয় পুলিশ বাহিনী’ নামে একটি নতুন সশস্ত্র বাহিনী গঠন করা হয় এবং অভিযোগ রয়েছে, এর মাধ্যমে জোরপূর্বক বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম জনগোষ্ঠীকে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে উচ্ছেদ করা হয়।

১৯০০ সালে প্রণীত রেজুলেশনের মাধ্যমে বাঙালি মুসলিমদের পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাস ও ভূমি ক্রয়ের অধিকার সীমিত করা হয়।

মিজোরাম, ত্রিপুরা, অরুণাচল ও আরাকান অঞ্চল থেকে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে এনে পার্বত্য চট্টগ্রামে পুনর্বাসনের অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে। একই সঙ্গে অ-উপজাতি জনগোষ্ঠীর ওপর চাপ সৃষ্টি করে তাদের স্থানত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ পাওয়া যায়।

১৯৩৫ সালের গভর্নমেন্ট অব ইন্ডিয়া অ্যাক্ট-এর মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে এই অঞ্চলের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোয় পরিবর্তন আসে।

১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম-এ স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন মহলে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ এটিকে শান্তি প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখেন, আবার কেউ এর সমালোচনাও করেছেন।


শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা

জিয়াউর রহমান পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন জোরদারে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

১৯৭০-এর দশকের শেষ দিকে তাঁর সরকার সমতল ভূমি থেকে কিছু বাঙালি পরিবারকে পার্বত্য অঞ্চলে পুনর্বাসনের কর্মসূচি গ্রহণ করে। এর উদ্দেশ্য ছিল জনসংখ্যাগত ভারসাম্য, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করা।

তার গৃহীত উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলোর মধ্যে ছিল-

  • পরিকল্পিত পুনর্বাসন কার্যক্রম
  • অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদান
  • ১৯৭৬ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড (CHTDB) গঠন
  • নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার
  • রাজনৈতিক সংলাপের উদ্যোগ

তবে এ নীতিগুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনাও রয়েছে। তাদের মতে, এসব পদক্ষেপ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর প্রভাব ফেলেছে এবং সামাজিক উত্তেজনার কারণ হয়েছে।


সমসাময়িক প্রেক্ষাপট

বর্তমান সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মতামত, বিশ্লেষণ ও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। এ বিষয়ে বিভিন্ন মহল ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে থাকে। আন্তর্জাতিক রাজনীতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ নীতির প্রভাব নিয়ে আলোচনাও বিদ্যমান।


আমাদের করণীয়

প্রথমত:
দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সচেতন থাকা।

দ্বিতীয়ত:
শিক্ষা, সাহিত্য, নাটক ও চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে তোলা।

তৃতীয়ত:
জাতীয় ঐক্য, মূল্যবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জোরদার করা।

চতুর্থত:
দেশীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া এবং মানসম্মত গণমাধ্যম গড়ে তোলা।

পঞ্চমত:
দক্ষ, সচেতন ও দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরি এবং অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা।


শেষ কথা

পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও সম্প্রীতি রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। এজন্য প্রয়োজন বাস্তবভিত্তিক নীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সকল জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করা।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *