সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর শিশুর মৃত্যু, দুই চিকিৎসক পুলিশ হেফাজতে

অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর শিশুর মৃত্যু, দুই চিকিৎসক পুলিশ হেফাজতে

কেএম শাহীন রেজা (কুষ্টিয়া): কুষ্টিয়ায় অস্ত্রোপচারের সময় অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর ৫ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মারা যাওয়া শিশুর নাম তাসনিয়া আফরিন। সে কুমারখালী উপজেলার সানপুকুরিয়া গ্রামের তরিকুল ইসলামের মেয়ে।

কুষ্টিয়ায় একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে শিশুটির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সদর উপজেলার মোল্লাতেঘরিয়া এলাকায় একতা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অপারেশন থিয়েটারে তাসনিয়া (৫) নামের শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের সানপুকুরিয়া গ্রামের তরিকুল ইসলাম তার ৫ বছর বয়সী কন্যার হাতের অপারেশনের জন্য বিকেল ৩টার দিকে একতা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করান। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পর এ ঘটনা ঘটে। এর কয়েকদিন আগে তাসনিয়ার বাম হাত ভেঙে যায়।

তরিকুল ইসলামের স্ত্রী সীমা খাতুন জানান, তার স্বামী পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। মেয়ের চিকিৎসার জন্য হাতের অপারেশন করাতে একতা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অপারেশন রুমে নেওয়া হলে সেখানে তার মেয়ের মৃত্যু হয়।

পরিবার জানায়, সন্ধ্যার পর শিশুটিকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। সেখানে অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগের কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা।

অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট অ্যানেসথেসিস্ট জানান, শিশুটির প্রাথমিক শারীরিক পরীক্ষা স্বাভাবিক ছিল। অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর হঠাৎ তার মৃত্যু হয়, যা হৃদ্‌রোগজনিত কারণেও হতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগে ত্রুটি বা নিম্নমানের ওষুধ ব্যবহারের মতো বিভিন্ন কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না তা তদন্ত করা হবে।

অপারেশনের আগেই শিশুর মৃত্যু হওয়ায় প্রতিবাদে এলাকার মানুষ ও রোগীর স্বজনরা একতা ডায়াগনস্টিক সেন্টার ঘেরাও করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি তার পুলিশের টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।

তবে জনতা একতা ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের দাবি তোলে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনতাকে অবগত করলে তারা আরও উত্তেজিত হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে কয়েক ঘণ্টা অভিযুক্ত ডা. তাহেরুল আল আমিনকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয় জনতা ও মৃত শিশুর স্বজনরা।

পরে রাত ১২টার দিকে সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও ডিবি পুলিশের যৌথ টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত চিকিৎসককে পুলিশ হেফাজতে নেয় এবং মৃত তাসনিয়াকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

এদিকে মৃত তাসনিয়ার স্বজনরা অভিযুক্ত ডা. তাহেরুল আল আমিনের শাস্তি দাবি করেন এবং আইন অনুযায়ী ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের দাবি তোলেন। সেই সঙ্গে আন্দোলনরত জনতা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, ওই চিকিৎসক ও একতা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *