আকতার হোসেন বকুল, পাঁচবিবি (জয়পুরহাট): আমাদের দেশের কৃষকরা সাধারণত কৃষিপণ্য বিপণনের উদ্দেশ্যে কলা চাষ করে থাকেন। কলাগাছ পরিপক্ব হলে তাতে কলা ধরে এবং কৃষকরা শুধুমাত্র কলা সংগ্রহ করেন, গাছ নয়। গাছগুলোকে আবর্জনা বা অপ্রয়োজনীয় মনে করে কেটে ফেলে দেন। অনেক কৃষকই জানেন না যে কলাগাছের বাকল থেকে ফাইবার বা সুতা তৈরি হয় এবং এর আর্থিক মূল্য রয়েছে। একটি কলাগাছ থেকে প্রায় ২০০ গ্রাম সুতা পাওয়া যায়।
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌরসভার গণেশপুরে এই প্রথম কলাগাছের বাকল থেকে সুতা তৈরি করছেন রেজভী নামের এক যুবক। তিনি পূর্বে ঢাকার গাজীপুরের কোনাবাড়িতে একটি কোম্পানিতে আড়াই বছর শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। সেখানে কাজ করার সময় তিনি কলাগাছ থেকে সুতা তৈরির কৌশল আয়ত্ত করেন। উপজেলার উচিৎপুর (খুনারপাড়া) গ্রামের শাহীন আলমের ছেলে রিয়াছাদ রেজভী প্রথমে ৮০ হাজার টাকায় একটি পুরোনো মেশিন কিনে এ কাজ শুরু করেন। বর্তমানে তার এই উদ্যোগে বাবা শাহীন আলমসহ ১০-১২ জন শ্রমিক কাজ করছেন।
রেজভী বলেন, এ কাজে তেমন পুঁজি লাগে না। কারণ কৃষকরা তাদের জমিতে লাগানো গাছ কেটে শুধু কলা নিয়ে যান, আর গাছগুলো আবর্জনা মনে করে ফেলে দেন। আমরা পরিত্যক্ত কলাগাছ নিতে চাইলে কৃষকরা বাধা দেন না, বরং নিয়ে যেতে উৎসাহ দেন।

পৌরসভার গণেশপুর মহল্লার আব্বাস আলী, যিনি এখানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন, বলেন- মাঠে-ঘাটে অন্যান্য কাজের তুলনায় কলাগাছের বাকল থেকে সুতা তৈরির কাজ সহজ ও আরামদায়ক।
উদ্যোক্তা রেজভী জানান, কলাগাছের বাকল থেকে ফাইবার বা সুতা উৎপাদন অত্যন্ত লাভজনক। তিনি আরও বলেন, কলার বাকল থেকে সুতা সংগ্রহের পর অবশিষ্ট অংশ দিয়ে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদন করা সম্ভব। কৃষক পর্যায়ে ভার্মি কম্পোস্টের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
তিনি মনে করেন, সরকারি ভাবে স্বল্প সুদে ঋণ পাওয়া গেলে এ কাজের প্রসার ঘটানো সম্ভব, যা অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জসিম উদ্দিন বলেন, কলাগাছের কাণ্ড থেকে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক তন্তু পরিবেশবান্ধব ও বায়োডিগ্রেডেবল। এটি কৃষি বর্জ্যকে মূল্যবান সুতায় রূপান্তরের একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ। কলাতন্তুর সুতা দিয়ে রশি, ব্যাগ, ম্যাট ও পোশাক তৈরি করা সম্ভব, যা গ্রামীণ অর্থনীতি ও টেকসই ফ্যাশন শিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

