সর্বশেষ :
20 Oct 2026, Tue

১০ লাখ চাঁদা না পেয়ে লামায় রক্তাক্ত হামলা: সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি

১০ লাখ চাঁদা না পেয়ে লামায় রক্তাক্ত হামলা: সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি

বেলাল আহমদ, লামা (বান্দরবান): বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নে এক প্রবাসী পরিবারের রাবার ব্যবসাকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি, রাবার চুরি ও নৃশংস হামলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ছাত্রদল নেতাসহ একদল চিহ্নিত সন্ত্রাসীর হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন ব্যবসায়ী আব্দুস সবুর বাবুলের ছেলে মোঃ ওমর ফারুক (৩০)। বর্তমানে তিনি মুমূর্ষু অবস্থায় চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

(১৬ এপ্রিল শনিবার) বিকালে লামা রিপোর্টার্স ইউনিটির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার এই অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় ৫ জন নামধারী এবং আরও ১০-১৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত প্রধান আসামিরা হলেন- ১. মাহফুজ আলম প্রকাশ মাসুম (২৮), ২. কোরবান আলী প্রকাশ রাজা মিয়া (২৪), ৩. মনির হোসেন মজলু (৩৫), ৪. মো. লিটন (৩০) এবং ৫. রফিকুল ইসলাম। তারা সবাই আজিজনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

ওমর ফারুকের পিতা মোঃ আবদুস সবুর বাবুল জানান, তাদের মালিকানাধীন ২০-২২ বছরের পুরনো রাবার বাগান থেকে উপার্জিত আয়েই তাদের সংসার চলে। অভিযুক্ত আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। গত ৫-৬ মাস আগে প্রাণের ভয়ে ৩ নম্বর আসামিকে ১৫,০০০ টাকা দিলেও তাদের দাবি করা বড় অংকের চাঁদার জন্য চাপ ও হুমকি অব্যাহত থাকে।

গত ১৪ এপ্রিল দিবাগত রাতে ওই ব্যবসায়ীর ঘর থেকে আনুমানিক ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ৭০০ কেজি রাবার শিট চুরি হয়। পরদিন ১৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় এ বিষয়ে ১ নম্বর আসামি মাহফুজ আলম মাসুমকে জিজ্ঞেস করলে সে চড়া গলায় বলে, ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা না দিলে তোদের কোনো জিনিস রক্ষা করতে পারবি না, সবকিছু লুট করে নিয়ে যাব।

ওই দিনই রাত ৯টা ৩০ মিনিটে আজিজনগর বাজারের তিন রাস্তার মোড়ে ওমর ফারুককে একা পেয়ে আসামিরা অতর্কিত হামলা চালায়। পরবর্তীতে রাত ১০টা ১৫ মিনিটে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে পুনরায় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে ওমর ফারুক ও তার দুই কর্মচারীর ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়।

হামলায় ওমর ফারুকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। তাকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে আবদুস সবুর বাবুল আক্ষেপ করে বলেন, আমরা শান্তিতে ব্যবসা করতে চাই। সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজি ও হামলার কারণে আজ আমার ছেলে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। আমি প্রশাসনের কাছে এই চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *