ঢাকা: দেশের দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় পরিবারগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে সরাসরি সহায়তা দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
কর্মসূচির মূল বৈশিষ্ট্য ও সুবিধাসমূহ:
-
সরাসরি অর্থ সহায়তা: নির্বাচিত পরিবারগুলোকে নিয়মিত নগদ অর্থ প্রদান করা হবে।
-
নারীর ক্ষমতায়ন: সহায়তার অর্থ সরাসরি পরিবারের নারী সদস্য বা গৃহকর্ত্রীর হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।
-
স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ: জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ডেটাবেস ব্যবহার করে প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতিতে সহায়তা বিতরণ করা হবে। এতে করে অনিয়ম ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে।
-
উচ্চতর ভাতার হার: প্রচলিত সামাজিক ভাতার তুলনায় এই কার্ডের আওতায় সহায়তার পরিমাণ বেশি হতে পারে।
আবেদন প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে এটি শুরু হবে। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত হয়ে সারা দেশে কার্ড বিতরণ করা হবে। আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: ১. আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ২. পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি ৩. সচল মোবাইল নম্বর
আবেদনকারীগণ ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে ফর্ম সংগ্রহ করতে পারবেন। এছাড়া শীঘ্রই একটি অনলাইন পোর্টাল চালু করা হবে।
তদারকিতে উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি:
এই কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করে ১৫ সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। কমিটিতে রয়েছেন:
-
মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ বিষয়ক উপদেষ্টা।
-
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা।
-
বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সচিববৃন্দ।
সরকারের প্রত্যাশা, প্রতি পরিবারে একটি করে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদানের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে এবং দেশের সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোয় এক নতুন মাত্রা যোগ হবে।

