সাভার: সাভারে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। ভবঘুরের ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়ানো এক সিরিয়াল কিলার ছয়টি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামির নাম মশিউর রহমান খান সম্রাট ওরফে ‘সাইকো সম্রাট’ (৪০)। তিনি সাভারের ব্যাংক কলোনির বাসিন্দা। তার পিতা মৃত সালাম এবং মাতা মৃত রেজেয়া।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সাভার পৌরসভার পার্বতীনগর এলাকার একটি পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টার এবং আশপাশের এলাকায় ধারাবাহিকভাবে ছয়টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
প্রথম ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট বিকেলে। সাভার পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পার্বতীনগরে অবস্থিত পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে প্রায় ৩০ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতনামা পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল এবং দুই হাত গামছা দিয়ে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়।
দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর একই কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলার বাথরুমের পাশে। সেখানে প্রায় ৩০ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতনামা নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যার গলায় ও মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল।
তৃতীয় ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর ওই কমিউনিটি সেন্টারের বাথরুম থেকে আগুনে পোড়ানো ও গলিত অবস্থায় প্রায় ৩৫ বছর বয়সী এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি এতটাই পুড়ে গিয়েছিল যে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
চতুর্থ হত্যাকাণ্ডটি ঘটে ২০২৫ সালের ৩ ও ৪ জুলাইয়ের মধ্যে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে সাভার মডেল মসজিদসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানের পেছন থেকে ৭৫ বছর বয়সী আসমা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তে জানা যায়, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
সবশেষে ২০২৬ সালের ১৮ জানুয়ারি বিকেলে পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলার বাথরুম থেকে আগুনে পোড়ানো অবস্থায় ২৫ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতনামা পুরুষ ও ১৩ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনাই তদন্তে নতুন মোড় নিয়ে আসে।
নতুন করে দুইটি মরদেহ উদ্ধারের পর সাভার মডেল থানা পুলিশ তদন্ত জোরদার করে। কমিউনিটি সেন্টার ও আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহজনকভাবে এক ভবঘুরে ব্যক্তিকে এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তার চলাফেরা, সময় ও অবস্থান বিশ্লেষণ করে পুলিশ তাকে শনাক্ত করে এবং তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি একই স্থানে সংঘটিত সর্বশেষ দুই হত্যাকাণ্ডসহ আগের চারটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় একাধিক হত্যা ও লাশ গোপনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই সিরিয়াল কিলিংয়ের পেছনের উদ্দেশ্য ও সম্ভাব্য আরও কোনো ভুক্তভোগীর তথ্য জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

