দোহার (ঢাকা): ‘সবাই দেখবে আলো’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ঢাকার দোহার উপজেলার পদ্মা সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দাতা সংস্থা Charity Organization of Bangladeshi Arizonas (COBA)-এর অর্থায়নে এবং দারিদ্র্য দূরীকরণ সংস্থা (DADUS)-এর তত্ত্বাবধানে এই মানবিক উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হয়।
দিনব্যাপী এই ক্যাম্পে উপজেলার প্রায় তিন শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মোট ৬১ জন রোগীকে ছানি অপারেশনের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে। আগামী ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে এসব রোগীকে নিজস্ব পরিবহন সুবিধায় ঢাকায় বাংলাদেশ আই হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ছানি অপারেশন ও লেন্স স্থাপন করা হবে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দোহার ও শ্রীনগর এলাকার অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় উন্নত চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়াই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। মূলত দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও অন্ধত্ব দূরীকরণের প্রত্যয় নিয়ে এই কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
সারাদিনব্যাপী এ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে উপস্থিত ছিলেন দাদূসের চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. এ আর খান (দাদূসের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক), ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অধ্যাপক কে এম ওমর হাসান, ট্রেজারার আবুল বশির খান, বিশিষ্ট চিকিৎসক ও সিমবায়োসিসের চেয়ারম্যান ডা. আব্দুর রহমান পাখি এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের উপদেষ্টা আখতারুজ্জামান নিপু।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মোহাম্মদ আলী সাগর, দাদূসের সেক্রেটারি জেনারেল ওবায়দুর রহমান খান, এক্সিকিউটিভ সদস্য ও সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেন, রোটারি সদস্য ইউনুস আলী দিপু, মোহাম্মদ ফারুক, প্রভাষক আলমগীর হোসেনসহ দাদূসের পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দাতা সংস্থা COBA সূচনালগ্ন থেকেই বাংলাদেশে দারিদ্র্য বিমোচন ও শিক্ষা প্রসারে কাজ করে যাচ্ছে। সংস্থাটি নিয়মিতভাবে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান, অসহায়দের চিকিৎসা সেবা, নারী উদ্যোক্তা তৈরি এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন টেকসই উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে অর্থায়ন করে আসছে। আগামীতেও এ ধরনের মানবিক ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি।

