কর্মকর্তা অনুপস্থিত, দালালদের দৌরাত্ম্য, হাজিরায় শুভঙ্করের ফাঁকি
দোহার (ঢাকা): ঢাকার দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নানাবিধ অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতায় জর্জরিত। অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালের প্রধান স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. রবিউল ইসলাম নিয়মিতভাবে অফিসে উপস্থিত থাকেন না। তাঁর অনুপস্থিতির সুযোগে দালালদের দৌরাত্ম্য থেকে শুরু করে সেবার মান তলানিতে ঠেকেছে।
সরেজমিনে তদন্তে দেখা গেছে, ইউএইচএফপিও ডা. রবিউল ইসলামের উপস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতালের ফিঙ্গারপ্রিন্ট হাজিরা তথ্যে দেখা যায়, চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত তাঁর অফিসে প্রবেশের (In Time) রেকর্ড থাকলেও, বের হওয়ার (Out Time) কোনো ফিঙ্গারপ্রিন্ট রেকর্ড নেই। এর অর্থ হলো, তিনি অফিসে এলেও দিনের শেষে কখন হাসপাতাল ত্যাগ করেন, তার কোনো প্রমাণ থাকে না।
গত বুধবার (১৯ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাঁর অফিসরুমে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর অফিসের সামনে অপেক্ষমাণ কয়েকজন জানান, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও তারা কর্মকর্তার দেখা পাননি।
এ বিষয়ে ডা. রবিউল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তিনি বলেন, আমি নিয়মিত অফিস করি। আজ আমি একটি মিটিং-এ আছি। তবে হাজিরায় অনিয়মের বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, মাঝে মাঝে আমার বের হওয়ার সময় হাজিরা দিতে মনে থাকে না।
সরেজমিনে আরও দেখা যায়, সকাল থেকেই হাসপাতাল চত্বরজুড়ে দালালদের সরব উপস্থিতি। এদের কারণে সাধারণ রোগীরা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।
এছাড়া, হাসপাতালের নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা যখন-তখন জরুরি বিভাগে প্রবেশ করছেন। এতে চিকিৎসা কার্যক্রমে যেমন বিঘ্ন ঘটছে, তেমনই জরুরি সেবার গুরুত্বও কমছে।
হাসপাতালটির অভ্যন্তরীণ সেবার মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। ভর্তি থাকা অনেক রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, হাসপাতালের দেওয়া খাবারের মান অত্যন্ত খারাপ।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, ডা. রবিউল ইসলামের মতো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার ঘন ঘন অনুপস্থিতির কারণেই সরকারি এই হাসপাতালটিতে এমন অনিয়ম যেন একটি স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি স্বাস্থ্য কর্মকর্তার এমন খামখেয়ালিপনা ও দায়িত্বে অবহেলা গ্রামীণ জনপদে স্বাস্থ্যসেবার মানকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও নিবিড় তদারকি ছাড়া এই হাসপাতালটিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা কঠিন।

