সারা দেশে শীতের প্রভাব বাড়তে শুরু করেছে। মৌসুমি এই পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে শিশু ও বৃদ্ধরা। আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তন, তাপমাত্রার পতন এবং শুষ্ক বাতাসের কারণে এ সময় নানা রোগব্যাধি বৃদ্ধি পায়। চিকিৎসকদের মতে, প্রয়োজনীয় সাবধানতা না নিলে সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, ডায়রিয়া, ব্রঙ্কাইটিসসহ শ্বাসতন্ত্র ও ত্বকের নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।
শিশুদের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি:
-
সর্দি-কাশি, জ্বর ও গলা ব্যথা
-
নিউমোনিয়া ও ব্রঙ্কিওলাইটিস
-
ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতা
-
অ্যালার্জি ও অ্যাজমা বাড়তে পারে
-
ত্বক শুষ্ক হয়ে একজিমা বা র্যাশ দেখা দিতে পারে
চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক দুর্বল হওয়ায় সামান্য ঠান্ডাও দ্রুত জটিল আকার নিতে পারে। ফলে ঘরের ভিতরে উষ্ণ পরিবেশ বজায় রাখা ও বাইরে বের হওয়ার সময় যথাযথ পোশাক পরানো জরুরি।
বৃদ্ধদের যে সমস্যাগুলো বাড়ে:
-
হাঁপানি, হার্ট ও শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা
-
আর্থ্রাইটিসের ব্যথা বৃদ্ধি
-
রক্তচাপ ওঠানামা
-
হাইপোথারমিয়ার ঝুঁকি
-
ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে গ্লুকোজের পরিবর্তন
বৃদ্ধদের অনেকেরই দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকে, যা শীতে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, শীতে রক্তনালি সংকুচিত হওয়ায় হার্টের ওপর চাপ বাড়ে—এ কারণে সতর্ক থাকা জরুরি।
ইসলামের আলোকে শীতে করণীয়:
ইসলাম শরীরের যত্ন নেওয়াকে ইবাদতের অংশ হিসেবে দেখেছে। হাদিসে এসেছে, শক্তিশালী মুমিন দুর্বল মুমিনের চেয়ে উত্তম। অর্থাৎ সুস্থ থাকাই আল্লাহর নেয়ামত। শীতের সময় নবী করিম (সা.) উষ্ণ পোশাক ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন।
ইসলামের আলোকে নির্দেশনা:
-
শীত থেকে বাঁচতে উষ্ণ পোশাক পরা- এটি শরীর রক্ষার ফরজ পর্যায়ের দায়িত্ব।
-
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা; ঠান্ডা লাগলে চিকিৎসা নেওয়া।
-
गरीब-দুঃস্থদের কম্বল, শীতবস্ত্র সাহায্য করা- যাকে ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ সাদাকা বলা হয়েছে।
-
শিশুরা ও বৃদ্ধরা অসুস্থ হলে অবহেলা না করে তৎক্ষণাৎ পরিচর্যার নির্দেশ রয়েছে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ: যেসব সাবধানতা নিলে সুস্থ থাকা যায়:
① উষ্ণ পোশাক ব্যবহার
শিশু ও বৃদ্ধদের মাথা, কান, গলা ও পা ভালোভাবে ঢাকা থাকা উচিত।
② গরম খাবার ও সুষম পুষ্টি
সুপ, পায়েস, ডিম, মাছ, মধু, ফল ও ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ খাবার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
③ ঘর গরম ও বাতাস চলাচল নিশ্চিত রাখা
ঘর বন্ধ না রেখে দিনে কিছুক্ষণ রোদ লাগতে দেওয়া ভালো।
④ হঠাৎ গরম-ঠান্ডা পরিবেশ এড়িয়ে চলা
গরম ঘর থেকে বের হয়ে ঠান্ডা বাতাসে গেলে সর্দি-কাশির ঝুঁকি বাড়ে।
⑤ পর্যাপ্ত পানি পান
শীতে পানি কম খাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়, যা ডিহাইড্রেশন সৃষ্টি করতে পারে।
⑥ হৃদরোগী ও বৃদ্ধদের বিশেষ যত্ন
নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ, হাঁটা এবং তাপমাত্রার হঠাৎ পরিবর্তন এড়ানো জরুরি।
⑦ শিশুদের বাইরে কম বের করা
ঘন কুয়াশা বা অতিরিক্ত ঠান্ডায় শিশুদের বাইরে নিয়ে যাওয়া উচিত নয়।
⑧ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া
জ্বর, শ্বাসকষ্ট, কাশি দীর্ঘস্থায়ী হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
শীতের শুরুতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়লেও ইসলামি নির্দেশনা ও চিকিৎসাবিজ্ঞান উভয়ের আলোকে সামান্য সচেতনতা অবলম্বন করলে শিশু ও বৃদ্ধদের অনেক সমস্যাই সহজে প্রতিরোধ করা যায়। পরিবার ও সমাজের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে একটি সুস্থ ও নিরাপদ শীত নিশ্চিত করতে।

