সর্বশেষ :
20 Oct 2026, Tue

নাম ও বাবার নামের মিল, নিরপরাধ যুবক কারাগারে- দোহার পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ

নাম ও বাবার নামের মিল, নিরপরাধ যুবক কারাগারে, কালের বার্তা

দোহার (ঢাকা): সাজাপ্রাপ্ত আসামির সঙ্গে নাম ও বাবার নামের মিল থাকার কারণে মো. আলমাছ নামে এক নিরপরাধ যুবককে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে দোহার থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) দোহার উপজেলার কুসুমহাটি ইউনিয়নের সুন্দরীপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন যাচাই-বাছাই না করেই আদালতে পাঠানো হলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে আলমাছকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তথ্য অনুযায়ী, ২০০২ সালে মিরপুর থানায় (মামলা নং–৩২(১)০২, মেট্রো এসটি ৮০৪/০২) দোহার উপজেলার দক্ষিণ বাহ্রার মো. খলিল আহমেদের ছেলে মো. আলমাছের নামে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ঐ মামলায় ২০০৪ সালে আদালত তাকে ১০ বছরের সাজা দেন। এরপর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।

ঐ মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) জারি থাকায় পুলিশ একই নামধারী অন্য এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করে।

গ্রেপ্তারকৃত যুবকের বোন নাজমা বেগম বলেন, আমার ভাই আলমাছ কৃষিকাজ ও ইলেকট্রিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। ২০০২ সালে মিরপুর থানার মামলায় তার নাম ও বাবার নাম মিল থাকায় পুলিশ ভুল করে তাকে গ্রেপ্তার করেছে। অথচ আমার ভাই কোনোদিন ঢাকায়ও যায়নি। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর।

তিনি আরও জানান, ২০১৮ সালেও একই কারণে পুলিশ আমার ভাইকে একবার গ্রেপ্তার করেছিল। পরে তৎকালীন কুসুমহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন আমজাদ ও ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদসহ স্থানীয় গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে চর মোহাম্মদপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ গৌতম কুমার সরকারের জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

নাজমা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এবারও পুলিশকে আমরা আগের কাগজপত্র দেখিয়েছি, বলেছি যে এটি ভুল পরিচয়। কিন্তু তারা কিছুই শোনেনি। তাদের ভুলের কারণে আমার ভাই এখন নিরপরাধ হয়েও কারাগারে। আমরা ন্যায়বিচার চাই।

নয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ফেরদৌসি বেগম বলেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরু ভূইয়া ও গ্রাম পুলিশ ঝন্টু সরকারের তথ্যানুসারে, আসল সাজাপ্রাপ্ত আসামি আলমাছের বাড়িঘর নদীভাঙনে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে তারা কোথায় থাকে, কেউ জানে না।

দোহার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জুবাইদুল হক বলেন, গ্রেপ্তারের পর পরিবারের পক্ষ থেকে নিরপরাধ দাবি করা হলে আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাই। তাদের নির্দেশেই আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান আলী বলেন, সমস্ত প্রমাণ যাচাই করে আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তারপরও যদি আসামিপক্ষের কোনো সন্দেহ থাকে, তারা আদালতে প্রমাণ উপস্থাপন করে মুক্তি পেতে পারেন।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *