চকরিয়া (কক্সবাজার): কক্সবাজারের চকরিয়ায় বেপরোয়া গতির যাত্রীবাহী ‘মারছা’ পরিবহনের চট্টগ্রামগামী একটি বাসের সঙ্গে কক্সবাজারগামী একটি নোহা মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের ৫ নারী পর্যটক নিহত হয়েছেন। এ সময় নোহা মাইক্রোবাসের চালকসহ তিনজন আহত হয়েছেন। বুধবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ‘হাঁসের দিঘী’ সেনাক্যাম্প এলাকায় এই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চান্দিশকরা এলাকার মুবিনুল হকের মা রোমানা আক্তার রুমি, তাঁর বোন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সাদিয়া হক, তাঁর স্ত্রী লিজা মজুমদার, শাশুড়ি ও শ্যালিকা ফারহানা মজুমদার। তবে শাশুড়ির নাম প্রতিবেদন তৈরি পর্যন্ত নিশ্চিত করতে পারেনি হাইওয়ে পুলিশ।
এ সময় আহত হয়েছেন গৃহকর্তা মুবিনুল হক, তাঁর শিশু মেয়ে ও নোহা মাইক্রোবাসের চালক উদয়। তাঁদেরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় আহত চালক উদয়ের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেকে) প্রেরণ করা হয়েছে।
চকরিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার জানিয়েছেন, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের চান্দিশকরা এলাকার বাসিন্দা এনামুল হকের ছেলে মুবিনুল হক তাঁর স্ত্রী, শিশু মেয়ে, বৃদ্ধা মা ও শাশুড়ি, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া বোন, শ্যালক, শ্যালিকাকে নিয়ে নোহা মাইক্রোবাসে করে কক্সবাজার বেড়াতে যাওয়ার পথে এই সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন।
চকরিয়া থানা পুলিশ, মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যাত্রীবাহী মারছা পরিবহনের একটি বাস বুধবার সকালে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম যাচ্ছিল। সকাল দশটার দিকে চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী সেনাক্যাম্প এলাকা অতিক্রমকালে বাসটির সঙ্গে কক্সবাজারমুখী পর্যটকবাহী নোহা মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে নোহা মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে ৩ জন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও ২ জন মারা যান। চকরিয়া উপজেলা সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদেরকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, নিহতরা সবাই কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার একই পরিবারের সদস্য। তাঁরা একটি নোহা মাইক্রোবাসে করে কক্সবাজার বেড়াতে যাচ্ছিলেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে চকরিয়া থানা পুলিশ, মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী, চকরিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় হতাহতদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়।
মহাসড়কে দুটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষের পর এক ঘণ্টারও বেশি সময় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। পরে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি সরিয়ে নিলে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার মালুমঘাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, ঘটনাস্থল থেকে হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে তিনজন ও হাসপাতালে নেওয়ার পর দুই নারী মারা গেছেন। নিহতরা সবাই নোহা মাইক্রোবাসের যাত্রী। তাঁরা সপরিবারে কক্সবাজার বেড়াতে যাচ্ছিলেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) এএসপি অভিজিৎ দাশ বলেন, নিহত পাঁচ নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মরদেহগুলোর প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। এরই মধ্যে নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাঁরা ঢাকা থেকে আসছেন। চকরিয়া এসে পৌঁছালে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এএসপি অভিজিৎ দাশ বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি হাইওয়ে পুলিশ জব্দ করেছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নিতে চকরিয়া থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

