দোহার (ঢাকা): ঢাকার দোহার উপজেলার কুসুমহাটি ইউনিয়নের শিলাকোঠা বাংলাবাজারে গত বৃহস্পতিবার রাতে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হুমায়ুন কবিরকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের পর পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী ও তাঁর স্বজনরা। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। নয়াবাড়ী এলাকার ওয়াসিম মোল্লা ও শাওনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ইউপি সদস্য হুমায়ুন কবিরকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে।
মানববন্ধনে ইউপি সদস্যের স্বজনরা জানান, কোনো মামলা বা অভিযোগ ছাড়াই গত বৃহস্পতিবার রাতে হুমায়ুন মোল্লা মেম্বারকে তুলে নিয়ে একটি ঘরে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। পরে তারাই পুলিশকে খবর দিয়ে তাঁকে থানায় ধরিয়ে দেয়।
ইউপি সদস্যের স্ত্রী রেখা আক্তার বলেন, শাওন আমার স্বামীকে দেখা করতে বলেছিল। দেখা না করাই কি তাঁর অপরাধ? শাওনের বাড়িতে তিন ঘণ্টা আটকে রেখে তাঁকে নির্যাতন করা হয়। এরপর পুলিশ ডেকে তাঁদের হাতে তুলে দেয়। আমার স্বামী কোনো অপরাধ করলে পুলিশ তাঁকে ধরবে, কিন্তু শাওন কিভাবে তাঁকে ধরে নিয়ে পুলিশে দেয়? তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও স্বামীর মুক্তি দাবি করেছেন।
ইউপি সদস্যকে তুলে নেওয়ার বিষয়ে অভিযুক্ত মো. শাওন বলেন, তাঁকে ডেকে আনা হয়েছিল, কেউ তুলে নেয়া বা অপহরণ করেনি। পরে পুলিশকে খবর দিলে তাঁকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। শাওন আরও দাবি করেন যে, হুমায়ুন মোল্লা তাঁর বাবা বিএনপি নেতা হারুন মাস্টার হত্যা মামলায় জড়িত।
এ বিষয়ে দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আলী বলেন, হুমায়ুন কবিরকে বিএনপি নেতা হারুন মাস্টার হত্যা মামলার আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয়দের দাবি, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই ঘটনার সঠিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

