দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে (চাকসু) আবারও নেতৃত্বে ফিরল ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটির সমর্থিত প্যানেল ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’ সপ্তম চাকসু নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় অর্জন করেছে। মোট ২৪টি পদে জয়ী হয়ে সংগঠনটি এক ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের নজির স্থাপন করেছে। সর্বশেষ ১৯৮১ সালের চাকসু নির্বাচনে শিবির বিজয়ী হয়েছিল। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনির উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেন। তিনি জানান, নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিল এবং ভোটারদের ব্যাপক উৎসাহে পুরো ক্যাম্পাস ছিল উৎসবমুখর।
ভিপি-জিএস পদে শিবিরের জয়: গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদ, ভিপি (সহ-সভাপতি) এবং জিএস (সাধারণ সম্পাদক) দখল করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির।
- ভিপি পদে বিজয়ী হয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ও ইতিহাস বিভাগের এমফিল শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহিম হোসেন। তিনি পেয়েছেন ৭ হাজার ৯৮৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের সাজ্জাত হোসেন পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৭৪ ভোট।
- জিএস পদে বিজয়ী হয়েছেন একই প্যানেলের সাঈদ বিন হাবিব, যিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাহিত্য সম্পাদক এবং ইতিহাস বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী। তিনি পেয়েছেন ৮ হাজার ৩১ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের মো. শাফায়াত পেয়েছেন ২ হাজার ৭৩৪ ভোট।
মোট ২৬টি পদের মধ্যে ছাত্রদলের প্রার্থী জয় পেয়েছেন কেবল একটি পদে। এজিএস (সহ-সাধারণ সম্পাদক) পদে আইয়ুবুর রহমান ৭ হাজার ১৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ছাত্রশিবিরের সাজ্জাত হোছন, যিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ৪৫ ভোট।
এ ছাড়া, সহ-খেলাধুলা ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে জয়ী হয়েছেন তামান্না মাহবুব নামের এক ছাত্রী, যা এবারের নির্বাচনে একটি ব্যতিক্রমী নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সর্বশেষ ১৯৮১ সালের চাকসু নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির বিজয়ী হয়েছিল। সে সময় ভিপি ছিলেন জসিম উদ্দিন সরকার এবং জিএস ছিলেন আবদুল গাফফার। দীর্ঘ ৪৪ বছর পর এবার সংগঠনটি আবারও চাকসুর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ায় এটিকে তাদের জন্য এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

