মুন্সীগঞ্জ: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ্যে অস্ত্র চালানো এবং প্রশিক্ষণের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় আলোচিত ‘রাসেল-ফয়সাল বাহিনীর’ প্রধান রাসেল হাওলাদারসহ তিনজনকে আটক করেছে মুন্সীগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে মুন্সিগঞ্জ পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই আটকের তথ্য নিশ্চিত করেন। আটককৃতরা হলেন- শ্রীনগরের বাঘড়া এলাকার রাসেল হাওলাদার ওরফে ‘ম্যাগনেট রাসেল’ (৩০), সাখাওয়াত বেপারি (২৮) এবং তারেক খান (৩০)।
পুলিশ সুপার জানান, মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে দশটার দিকে ডিবি পুলিশের একটি দল ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের মীরেরবাগ এলাকার একটি ভাড়াটিয়া ভবনে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। আটককৃতদের মধ্যে রাসেল হাওলাদারকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে সরাসরি উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বেশ কিছুদিন পূর্বে নিজেদের মোবাইলে ধারণ করা অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শন সংক্রান্ত একটি ভিডিও সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওর স্থানটি ছিল মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর কলেজের পূর্ব-উত্তর কর্নারের পুকুর পাড়। ভিডিওতে উপস্থিত ব্যক্তিরা শ্রীনগরের বাঘড়া ইউনিয়নের রাসেল হাওলাদার ওরফে ম্যাগনেট রাসেল ও তার সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত হন। ভিডিওটি পুলিশের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর থেকেই জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপরতা শুরু করে।
আলোচিত ১ মিনিট ৮ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যায়, জনশূন্য একটি স্থানে চার যুবক দাঁড়িয়ে আছেন। তাদের মধ্যে দু’জনের হাতে দুটি পিস্তল। একজনকে বলতে শোনা যায়, দামি কিন্তু এইডা, দুইডা দিয়া শট করমু। জবাবে অন্যজন বলেন, দুইডা দিয়া শট করা যাইব না, একটা দিয়া শট করতে হইব। গুল্লি রেয়ার, পাওয়া যায় না। আরেকজন যুবক পিস্তল হাতে নিয়ে আকাশের দিকে গুলি করার চেষ্টা করার সময় পাশ থেকে অন্যজন কীভাবে গুলি করতে হবে, সে বিষয়ে তাকে নির্দেশনা দিচ্ছিলেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভিডিওতে থাকা অন্য যুবকরা হলেন, কামারখোলার ফয়সাল, মথুরা পাড়ার আহির (সাদা টি-শার্ট, কালো প্যান্ট ও টুপি পরা) এবং অর্পণ (কালো পাঞ্জাবি পরা)।
পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার আরও জানান, আটককৃতদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া ভিডিওতে উপস্থিত বাকি আসামীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।

