দোহার (ঢাকা): ঢাকার দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের ঝনকি গ্রামে পূর্বশত্রুতার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাত ৯টার দিকে এই হামলায় উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন, যাদের মধ্যে চারজন গুরুতর। এই ঘটনায় দোহার থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় ও আহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় ঝনকি এলাকার ইস্রাফিল শিকদারের ছেলে রিফাদ বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় রিসাদ, তুষার ও রায়হানসহ আরও বেশ কয়েকজন পূর্ব শত্রুতার জেরে তার গতি রোধ করে। পরে গতিরোধকারীরা পাশের এলাকার মামুন মাঝি ও মুকছেদ মাঝিকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে আসেন।
রিফাদ ফোনে তার পরিবারকে বিষয়টি জানালে পরিবারের সদস্যরাও সেখানে পৌঁছান। এসময় উভয়পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
রিফাদের বাবা ইস্রাফিল শিকদারের অভিযোগ, এক পর্যায়ে মুকছেদ মাঝি ও মামুন মাঝির নেতৃত্বে রিফাদ ও তাদের পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা চালানো হয়।
এই হামলায় ইস্রাফিল শিকদার, সিমা আক্তার, সেলিম, এবং শামিম নামে চারজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা সেলিমের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা প্রেরণ করেন।
আহত ইস্রাফিল শিকদার ও সিমা আক্তার অভিযোগ করেন, আমাদের উপর অন্যায় ভাবে হামলা করা হয়েছে। আমরা এর সঠিক বিচার চাই। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে সমাজের আইনশৃঙ্খলা আরও খারাপ হবে।
অন্যদিকে, এই ঘটনায় মুকছেদ মাঝিও আহত হয়েছেন বলে তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। তিনিও হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা যায়।
ঘটনার পর রিফাদের পরিবারের পক্ষ থেকে দোহার থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। তবে মুকছেদ মাঝির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মুকছেদ মাঝির ভাই মামুন মাঝি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি মারামারির সময় ছিলাম না, অথচ আমাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। রিফাদ গংরা মাদক ব্যবসায়ী। আমার ভাই তাদের বাধা দেওয়ায় আমাদের উপর হামলা করেছে। তারা (রিফাদেরা) এলাকাবাসীকে মারধর করেছে।
এ বিষয়ে দোহার থানার ওসি হাসান আলী বলেন, এ ঘটনায় দোহার থানায় একটি মামলা হয়েছে। আইন অনুযায়ী ঘটনার তদন্ত হবে এবং এরপর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

