সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

মা ইলিশ রক্ষায় ৪ অক্টোবর থেকে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

মা ইলিশ রক্ষায় ৪ অক্টোবর থেকে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

ঢাকা: মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে আগামী ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিনের জন্য দেশব্যাপী ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। এই সময়ে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম রক্ষায় কঠোর ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৫’ পরিচালিত হবে। সোমবার সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এই ঘোষণা দেন।

 

উপদেষ্টা ফরিদা আখতার জানান, ইলিশের স্থায়ী উৎপাদন বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে মৎস্য সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলতি বছর ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম ১৯ আশ্বিন থেকে ৯ কার্তিক ১৪৩২ (৪ থেকে ২৫ অক্টোবর) পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, আশ্বিনী পূর্ণিমার আগের চারদিন এবং অমাবস্যার পরের তিনদিনসহ মোট ২২ দিন এ অভিযান চলবে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিএফআরই) এবং মৎস্যজীবীদের মতামত অনুযায়ী, প্রজনন মৌসুমে পূর্ণিমা ও অমাবস্যা উভয় সময়ই ডিম পাড়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় দুটি পর্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করে সর্বোচ্চ প্রজনন নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

ঘোষিত সময়ে দেশের নদ-নদী, সমুদ্র উপকূল ও মোহনায় ইলিশ আহরণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। উপদেষ্টা জানান, অভিযান পরিচালনায় মৎস্য কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নৌ পুলিশ, কোস্ট গার্ড, নৌ ও বিমান বাহিনীসহ সকল আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অংশগ্রহণ করবে।

এছাড়াও, জলসীমার বাইরে মাছ ধরা ট্রলারের অনুপ্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং নদীতে ড্রেজিং সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হবে।

 

নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলে পরিবারগুলোর জন্য সরকার বিশেষ খাদ্য সহায়তা প্রদান করবে। মৎস্য উপদেষ্টা জানান, মোট ৩৭টি জেলার ১৬৫টি উপজেলার ৬ লাখ ২০ হাজার ১৪০ জেলে পরিবারকে ভিজিএফ (চাল) দেওয়া হবে। প্রতিটি পরিবার ২৫ কেজি চাল বরাদ্দ পাবে এবং এই কার্যক্রমে মোট ১৫,৫০৩.৫০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হবে।

 

উপদেষ্টা ফরিদা আখতার গত বছরের অভিযানের সাফল্য তুলে ধরে বলেন, গত বছর (২০২৪) ১৩ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিনের অভিযানে ৫২.৫ শতাংশ মা ইলিশ নিরাপদে ডিম ছাড়ার সুযোগ পায়। এর ফলে ৪৪.২৫ হাজার কোটি জাটকা/রেণু ইলিশ পরিবারে যুক্ত হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবারের অভিযান আগের তুলনায় আরও সংগঠিত ও কার্যকরভাবে পরিচালিত হবে।

তবে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, অবৈধ জাল—বিশেষ করে কারেন্ট জাল, মশারী জাল, এবং ফিক্সড ইঞ্জিন/ফাঁদ জালের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপুল পরিমাণ জাটকা ধরা পড়ছে। তিনি মনে করিয়ে দেন যে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন ১৯৫০ (সংশোধিত ২০২০) অনুযায়ী এই ধরনের জাল সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। উপদেষ্টা আরও বলেন, জুলাই ও আগস্ট মাসে ইলিশ আহরণ ২০২৪ সালের তুলনায় যথাক্রমে ৩৩.২০ ও ৪৭.৩১ শতাংশ কম হয়েছে, যার একটি কারণ অবৈধ জালের ব্যবহার।

তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে সরকার অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে এবং মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবে।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *