রাঙামাটির সাজেকের গঙ্গারাম বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধের সময় পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সশস্ত্র সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সাজেক-বাঘাইহাট সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে প্রায় তিন হাজার পর্যটক আটকা পড়েন। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ উদ্যোগে তাঁদের নিরাপদে উদ্ধার করে খাগড়াছড়িতে নেওয়া হয়।
সেনাবাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গঙ্গারাম বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করে পর্যটকবাহী যান চলাচলে বাধা দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পর্যটকদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের টহল দল অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেয়।
সকাল আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে আলোচনা চলাকালে অবরোধকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে বলে জানানো হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করে অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করা হয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ সময় আত্মরক্ষা ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর টহল দল পাল্টা গুলি চালালে সশস্ত্র ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টায় আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে।
প্রাথমিক তথ্যের বরাতে সেনাবাহিনী জানায়, অবরোধ ও সহিংসতার ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অবরোধে অংশ নিতে বাধ্য করা এবং তাঁদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও করা হয়েছে।
সেনাবাহিনীর দাবি, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর চলমান অভিযানের কারণে চাপে থাকা ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের একটি অংশ পর্যটন এলাকায় অবস্থান নিয়েছে।
এ ধরনের সহিংসতা পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তার পাশাপাশি পর্যটনশিল্প এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেসামরিক প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

