মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ডুমরাকান্দা থেকে ফরিদপুর আনন্দ বাজার হয়ে নাপিতেরচর খেয়াঘাট এবং আলালপুর থেকে খিদিরপুর হয়ে বড় ছয়সূতী চকবাজার পর্যন্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। গত ৯ সেপ্টেম্বর স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিক মো. মাইন উদ্দিন তাঁর ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি থেকে সড়ক দুটির বেহাল দশা তুলে ধরে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে একটি পোস্ট করেন।
তিনি লেখেন, কারও মেরুদণ্ড ভেঙে যাওয়ার আগেই কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলার ডুমরাকান্দা থেকে ফরিদপুর আনন্দ বাজার হয়ে নাপিতেরচর খেয়াঘাট পর্যন্ত এবং আলালপুর থেকে খিদিরপুর হয়ে বড় ছয়সূতী চকবাজার পর্যন্ত সড়ক দুটির ভাঙাচোরা অংশ মেরামত করা অত্যন্ত জরুরি। জনস্বার্থে উল্লেখিত সড়ক দুটি উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক নজর কাড়লেও দীর্ঘদিনেও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অবশেষে বিষয়টি নজরে এলে কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক, সাবেক ছাত্রনেতা ও আসন্ন কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. শহীদ উদ্দিন বাবুল এগিয়ে আসেন। গত বৃহস্পতিবার তিনি স্থানীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে মধ্য সালুয়া চকবাজারের উত্তর পাশে পানিতে ডুবে থাকা বেহাল সড়কটি মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করে দেন।
এ বিষয়ে মো. শহীদ উদ্দিন বাবুল বলেন, সাংবাদিক মাইন উদ্দিন ভাইয়ের ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে এলাকার সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগের বিষয়টি আমার নজরে আসে। দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতিদিন যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ ও যানবাহনচালকদের চরম কষ্ট পোহাতে হচ্ছিল। জনগণের এই কষ্ট দেখে আমি আর চুপ করে থাকতে পারিনি। রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকেই নিজস্ব অর্থায়নে রাস্তাটি প্রাথমিকভাবে চলাচলের উপযোগী করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। ভবিষ্যতেও কুলিয়ারচরের যেকোনো জনকল্যাণমূলক কাজে আমি সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করব।
সড়ক মেরামত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে এলাকাবাসীর পক্ষে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে আমাদের প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে থাকতে হতো। বিশেষ করে রোগী, বৃদ্ধ ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে সীমাহীন কষ্ট হতো। পোস্ট দেওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নজর না দিলেও শহীদ উদ্দিন বাবুল ভাই উদ্যোগ নিয়ে নিজস্ব খরচে রাস্তাটি মেরামত করে দিয়েছেন। এতে আমাদের সাময়িক ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে। আমরা তাঁর এই সময়োপযোগী ও মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।
এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থেকে সড়ক সংস্কারকাজে সহযোগিতা করেন।

