নিজস্ব প্রতিবেদক, লামা: বান্দরবানের লামা উপজেলার মিরিঞ্জা পর্যটন এলাকায় অবস্থিত ‘মিরিঞ্জা রয়েল হিল রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’ জোরপূর্বক দখল, হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) লামার স্থানীয় একটি হলরুমে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রিসোর্টের অংশীদার মো. সুলতান মাহমুদের পক্ষে অপর অংশীদার জাফর মিয়া।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, লামা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কলিঙ্গারবিল এলাকার জাফর মিয়া এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বড় নুনারনবিল পাড়ার বাসিন্দা মো. সুলতান মাহমুদ দীর্ঘদিন ধরে ‘মিরিঞ্জা রয়েল হিল রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’ অংশীদারত্বের ভিত্তিতে পরিচালনা করে আসছিলেন। পূর্বে জমির মূল মালিক দুলাল মিয়ার সঙ্গে জটিলতা নিরসন করে মো. রাসেল চৌধুরী নামের এক ব্যক্তি টাকা বুঝে নিয়ে অংশীদারত্ব থেকে বেরিয়ে যান। এরপর অংশীদাররা শেয়ার বুঝে নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।
তবে পরবর্তীতে রাসেল চৌধুরীসহ একটি চক্র রিসোর্টের অংশীদারত্ব দাবি করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদা দাবি করতে শুরু করে বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর আনুমানিক দুপুর ২টার দিকে মো. রাসেল চৌধুরীর নেতৃত্বে শিশির স্বপন চাকমা, সঞ্জিতা চাকমা, মো. আরিফুল ইসলাম, শাহাব উদ্দিন, আলা উদ্দিনসহ ২০-৩০ জনের একটি দল অবৈধভাবে রিসোর্টে প্রবেশ করে। তারা পূর্বে দাবি করা পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায় এবং এতে আনুমানিক ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে দাবি করা হয়।
হামলায় বাধা দিলে মো. সুলতান মাহমুদ ও জাফর মিয়াকে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়। হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি মোবাইল ফোন, যার মূল্য ৪৫ হাজার টাকা; একটি অপ্পো মোবাইল ফোন, যার মূল্য ৩৫ হাজার টাকা; ৭৫ হাজার টাকা নগদ এবং আধা ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের আংটি, যার মূল্য ১ লাখ ৭ হাজার টাকা—লুট করে নিয়ে যায় বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
পরবর্তীতে রাসেল চৌধুরী রিসোর্টের ক্যাবল কেটে তা সুলতান মাহমুদের গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালান বলেও অভিযোগ করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন এসে তাঁদের মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে একটি দল পুনরায় রিসোর্টে হামলা চালিয়ে তা জোরপূর্বক দখল করে নেয়। এ সময় চাঁদার টাকা না দিলে রিসোর্ট ফেরত দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
সংবাদ সম্মেলন থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনটি দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো- এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি মো. রাসেল চৌধুরী, শিশির স্বপন চাকমাসহ সংশ্লিষ্টদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা; জোরপূর্বক দখল করা ‘মিরিঞ্জা রয়েল হিল রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’ উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা এবং ভুক্তভোগী ও তাঁদের উদ্ধারকারীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
ভুক্তভোগীরা জানান, এ ঘটনায় মো. রাসেল চৌধুরী (৩৫), শিশির স্বপন চাকমা (৫০), সঞ্জিতা চাকমা (৪৫)সহ ১২ জনকে আসামি করে লামা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার এবং রিসোর্টটি পুনরুদ্ধারে প্রশাসন ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কাউছার হামিদ জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত দোষী ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

