শফিকুল ইসলাম, তালা (সাতক্ষীরা): সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের বালিয়া ও শুভংকরকাটি এলাকার রেকর্ডীয় জমি পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের মইনুর গাজীর কবল থেকে উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে জমি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে তালা প্রেসক্লাবের সামনে খেশরা ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. শফিকুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এস এম লিয়াকত হোসেন, বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ বাবলু, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুর রহমান সাঈদ, খেশরা ইউনিয়ন ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ লাভলু, খেশরা ইউনিয়ন যুব জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন, সাবেক ইউপি সদস্য রাশেদ সানা এবং ভুক্তভোগী জমির মালিক আব্দুল আলিম বক্তব্য দেন। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ শত শত নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কপোতাক্ষ নদের ভাঙনে বালিয়া, শুভংকরকাটি, তেঘরিয়া, ডুমুরিয়া ও শাহজাতপুর গ্রামের মানুষের রেকর্ডীয় সম্পত্তি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে ওই জমি পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের সোনাতনকাটি ও মাহমুদকাটি এলাকায় নদীর পাশে জেগে ওঠে। ভুক্তভোগীদের দাবি, সেখানে তাঁদের রেকর্ডীয় প্রায় ১০০ একর জমি রয়েছে এবং তাঁরা প্রায় ২০ বছর ধরে এসব জমি ভোগদখল করে আসছেন।
বক্তারা জানান, প্রথমে উভয় পক্ষ বসে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। পরে জমি মাপজোকের মাধ্যমে সীমানা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অপর পক্ষ সেখানে উপস্থিত হয়নি।
তাঁদের অভিযোগ, গত ১৬ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে সোনাতনকাটি গ্রামের মৃত এরফান গাজীর ছেলে মইনুর গাজীর নেতৃত্বে ২০-২৫ জন ব্যক্তি জোরপূর্বক ওই জমিতে প্রবেশ করেন। এ সময় ধানের ফসল ও মৎস্যঘের লুটপাট, ঘেরের বাঁধে লাগানো ফলের গাছ কেটে নেওয়া এবং মৎস্যঘেরের বাসায় আগুন দেওয়ার অভিযোগ করেন তাঁরা। এ ছাড়া জাল ও খেপলা জাল দিয়ে ঘেরের লাখ লাখ টাকার মাছ ধরে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করা হয়।
ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, অভিযুক্তরা যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের হুমকি দিচ্ছেন। এতে তাঁরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে জমি উদ্ধারের পাশাপাশি তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।
মানববন্ধন শেষে নেতৃবৃন্দ তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেন। স্মারকলিপিতে দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় সম্পত্তি পুনরুদ্ধার, শান্তিপূর্ণ দখল নিশ্চিত, ক্ষতিপূরণ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
অভিযোগের বিষয়ে মইনুর গাজী বলেন, তাঁদের পাইকগাছার ৪০ বিঘা জমি তালার ওদিকে এবং তালার ৩৮ বিঘা জমি পাইকগাছার এপারে রয়েছে। এ জমি নিয়ে গত ২১ সেপ্টেম্বর পাইকগাছায় উপজেলা বিএনপির নেতাদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের বৈঠক হয়। সেখানে কোনো পক্ষ মামলা না করে একজন সার্ভেয়ার দিয়ে জমির সীমানা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়। তবে তাঁরা সেই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সাতক্ষীরা আদালতে মামলা করেছেন। মামলার কারণে যে যেভাবে ছিলেন, সেভাবেই দখলে রয়েছেন।
এ বিষয়ে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ মানববন্ধন করেছেন এবং স্মারকলিপি দিয়েছেন। বিষয়টি দুই উপজেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানাবেন।

