বায়েজিদ পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা): গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই যত্রতত্র অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রুগ্ণ, জীর্ণশীর্ণ ও মৃত পশু জবাই করা বেড়েই চলেছে। ফলে গোটা পলাশবাড়ী উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রায় হুমকির মুখে পড়েছে।
এ ব্যাপারে দৃশ্যমান জরুরি পদক্ষেপ নিতে স্থানীয় স্বাস্থ্যসচেতন মহল উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সরেজমিনে তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, পৌরসভাসহ গোটা উপজেলার আটটি ইউনিয়নের অন্তত অর্ধশত চিহ্নিত পয়েন্টে অহরহ এসব পশু জবাই হয়ে আসছে। এমন পশুর মাংস খাওয়ার ফলে জনস্বাস্থ্য প্রায় বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গাইবান্ধা স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ৩৭ জন। তাঁদের মধ্যে ১৯ জন নারী, ১৪ জন পুরুষ ও চারজন শিশু। যদিও বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা দ্বিগুণ বলে জানা গেছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আক্রান্ত ব্যক্তিরা মাংস খেয়েছিলেন অথবা আক্রান্ত পশুর সংস্পর্শে এসেছিলেন। এ কারণেই তারা আক্রান্ত হচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যদিও গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনের পক্ষ থেকে বিষয়টির যথাযথ গুরুত্ব বিবেচনা করে মাঠপর্যায়ে সার্বিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা পর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা কাগজে-কলমে খামারিদের বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কর্মশালা করলেও মাঠপর্যায়ে এর কোনো সুফল মিলছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিন তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, পলাশবাড়ী উপজেলার পৌর শহরের কালীবাড়ি বাজার, রংপুর বাসস্ট্যান্ড, হারুন মার্কেট মোড়, সাথী সিনেমা চত্বর, এস এম মার্কেট, দক্ষিণ বন্দর এলাকা ও জুনদহ এলাকায় মাংস বিক্রি হয়।
এ ছাড়া কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ী, হোসেনপুর ইউনিয়নের মেরীরহাট, বরিশালের কোমরপুর বাজার ও খাসার বাজার, মহদীপুর ইউনিয়নের ঢোলভাঙ্গা, ঠুটিয়াপাকুর ও আমলাগাছী ছাড়াও মনোহরপুর ইউনিয়নের গোডাউন বাজার, কাজীর বাজার ও আমতলী বাজার এলাকা এবং সর্বশেষ হরিনাথপুর ইউনিয়নের হরিণাবাড়ী ও তালুকজামিরাসহ উল্লেখযোগ্য এলাকায় মাংস বিক্রি হচ্ছে।
স্বাস্থ্যসচেতন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জানান, হঠাৎ রোগাক্রান্ত হয়ে পড়া কিংবা মৃত পশু জবাই করে মাংস বিক্রি করার ঘটনা নেহাত কম নয়। মরা ও রুগ্ণ গরুর মাংস কেনা এড়াতেই কেউ কেউ নিজেরাই পশু কিনে মাংস ভাগ করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এতে তারা সাশ্রয়ী ও স্বাস্থ্যসম্মত মাংস পাচ্ছেন বলে জানান।
তারা আরও জানান, বাজার থেকে মাংস কিনতে গেলে একদিকে মাংসের অতিরিক্ত মূল্য, ওজনে ফাঁকি, পানি মেশানো মাংস, ইচ্ছামতো মাংস না দেওয়া- সর্বোপরি মাংসটি জীর্ণশীর্ণ, রোগাক্রান্ত কিংবা মৃত পশুর কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়।
তারা আরও জানান, রাতে চুরি হওয়া গরু ভোররাতে জবাই করে মাংসের ভাণ্ডারগুলোতে ভাগ করে স্বল্প সময়ে বাজারে বিক্রি করার মতো ঘটনাও পূর্বে ঘটেছে।
এমন পরিস্থিতিতে পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ বরাবরই উদাসীন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। পশু ক্রয়ের চালান, মাংস বিক্রির স্থান নির্ধারণ ও বিক্রেতাদের তালিকা প্রণয়ন, পশুর স্বাস্থ্য সনদসহ পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে সরকারি বিধি-বিধান যথাযথভাবে প্রয়োগ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগ নীরব ভূমিকা পালন করে আসছে বলে দাবি স্বাস্থ্যসচেতন মহলের।
এখানে জবাবদিহি যেন শূন্য! এসব বন্ধে পলাশবাড়ীর সর্বস্তরের সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ কার্যকর করতে পৌর প্রশাসক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান অভিযান পরিচালনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

