কুমিল্লা: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম (১৩) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এর মধ্যে সন্দেহজনকভাবে তুহিন নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। এ হত্যাকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক ক্লু পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে শুধু আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল, নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত উদ্ঘাটন করা হবে। ঘটনায় যতজনই জড়িত থাকুক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কয়েকজন পুলিশ হেফাজতেও রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই তাদের নাম প্রকাশ করা সম্ভব নয়। অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তবে একাধিক সূত্রে জানা গেছে, তুহিন নামে এক যুবকের অপ্রতীমের সঙ্গে ঘটনার দিন বিকেল থেকে থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।
এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানাধীন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতীম। এরপর সে আর বাড়ি ফেরেনি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে ওইদিন সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।
নিখোঁজের পর থেকেই অপ্রতীমকে উদ্ধারে স্বজনদের পাশাপাশি পুলিশও তৎপর ছিল। তার সর্বশেষ অবস্থান এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছিল। পরে শনিবার দুপুরে কোটবাড়ি এলাকার দক্ষিণ মোড়ের দক্ষিণ পাশের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অপ্রতীম বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান।
অপ্রতীমের মরদেহের প্রথম প্রত্যক্ষদর্শী আবদুল কাদের জিলানী বলেন, তাঁরা বাঁশ কাটার জন্য ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। আনুমানিক সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে তাঁর ছেলে জঙ্গলের দিকে কাউকে পড়ে থাকতে দেখে। কাছে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান, অপ্রতীমের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের জানানো হয়।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবদুল হাকিম বলেন, ঘটনার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুলিশ, ডিবি, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে অপ্রতীমকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তাঁর সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটিও এখনো পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতীমের মৃত্যুর কারণ ও হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল কি না, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে- তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

