বেলাল আহমদ, লামা (বান্দরবান): বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে দরিদ্র শিশুদের মধ্যে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ ও উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের প্রকল্পের টাকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নামমাত্র কিছু শিশুকে সামান্য স্কুল ব্যাগ, জ্যামিতি বক্স, খাতা ও কলম দিয়ে উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা নয়ছয়ের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া ইউনিয়নের উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের আরও কয়েকটি প্রকল্পের কাজ গত ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো বাস্তবায়ন না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, লামা উপজেলা পরিষদের গত ১৭ জুন ২০২৬ সালের রেজুলেশন অনুযায়ী উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের দ্বিতীয় কিস্তির বরাদ্দের আওতায় ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে মোট সাতটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ‘ইউনিয়নের প্রথম শ্রেণির দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল ড্রেস, ব্যাগ, মোজা ও জুতা বিতরণ’ প্রকল্পে ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ হোসেন মামুন বলেন, আমার ওয়ার্ডে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উন্নয়ন সহায়তা তহবিল থেকে চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। তবে প্রকল্পের তালিকার সঙ্গে এর কোনো মিল নেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, দ্বিতীয় কিস্তির আওতায় অবকাঠামো ও সেচ খাতে মোট ১৭ লাখ ৫২ হাজার ৯০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে- হারগাজা থাঙ্কুই পাড়া মেইন রোড থেকে মংবাচিংয়ের বাড়ি পর্যন্ত ফ্ল্যাট সলিংকরণে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, রাংগা ঝিরি আর্মি রাসেলের বাড়ি থেকে পূর্বপাড়া যাতায়াতের রাস্তা এইচবিবিকরণে ৩ লাখ টাকা, পশ্চিম হায়দারনাশী রফিকের বাড়ি থেকে সাহাব উদ্দিন মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত ড্রেনসহ রাস্তা এইচবিবিকরণে ৩ লাখ টাকা, ইয়াংছা কাঁঠালছড়ায় নুরুচ্ছফা সর্দারপাড়া যাতায়াতের রাস্তা এইচবিবিকরণে ৩ লাখ টাকা, হিমছড়ি মনুর বাড়ি থেকে মসজিদে যাতায়াতের রাস্তায় ফ্ল্যাট সলিংকরণে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্সে আইপিএসসহ সোলার স্থাপন ও কটেজ রংকরণে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৯০০ টাকা।

অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রকল্পের কাজ শতভাগ সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলন এবং সরকারি নির্দেশিকা উপেক্ষা করে অর্থ ভাগ-বাটোয়ারার চেষ্টা চলছে। অনেক ক্ষেত্রে লোকদেখানো সামান্য কাজ করে পুরো টাকা আত্মসাতেরও পাঁয়তারা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিক সমাজ ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের প্রকৃত সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য বলেন, আমরা প্রকল্পের বিষয়ে কিছুই জানি না। সাংবাদিকদের লেখার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। অন্যথায় প্রকল্পের টাকা লোপাট হয়ে যেত। তিনি আরও বলেন, ইউপি সচিব আমাকে পরিষদের উন্নয়ন তহবিল থেকে তিন লাখ টাকার কাজ দুই লাখ ১০ হাজার টাকায় দ্রুত শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তাহলে বাকি ৯০ হাজার টাকা কার পকেটে যাবে?
এ বিষয়ে ইউপি সচিব মো. রুহুল আমিন খন্দকার বলেন, দরিদ্র শিশুদের শিক্ষা সামগ্রী এখনো বিতরণ করা হয়নি। বর্ষায় যোগাযোগব্যবস্থার কারণে এখনো তালিকার কাজ শেষ করতে পারিনি।
লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ প্রকল্প এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি। ১৭ জুন ২০২৬ তারিখে আমরা সভা করেছি। শিগগিরই শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হবে এবং প্রকল্পের কাজও বাস্তবায়ন করা হবে।

