নাটোর জেলা প্রতিনিধি: নাটোরের নলডাঙ্গায় দুর্ঘটনাকবলিত রেজিস্ট্রেশনবিহীন সিএনজি অটোরিকশা থেকে পড়ে যাওয়া গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নলডাঙ্গা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বুড়িরভাগ গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. গালিব মোস্তফা (২৫), মো. নজরুল ইসলাম ভোলা (৪০), মো. শাহাদৎ হোসেন পিপল (৪৫) ও মো. আরমান (৩০)। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা সিএনজি চালক পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর রাত ৭টার দিকে নলডাঙ্গা থানাধীন বুড়িরভাগ জামে মসজিদের সামনে পাকা সড়কের বাঁকে একটি সবুজ রঙের রেজিস্ট্রেশনবিহীন টিডিএস সিএনজি অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পর নলডাঙ্গা থানা পুলিশ রাত ১০টার দিকে সিএনজি অটোরিকশাটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
পরে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পুলিশ জানতে পারে, দুর্ঘটনাকবলিত সিএনজিতে থাকা তিনটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তায় অবৈধ মাদকদ্রব্য গাঁজা ছিল। দুর্ঘটনার সময় গাঁজা বহনকারী আরমান আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নলডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেন। পরবর্তীতে গাঁজার বস্তাগুলো শাহাদৎ হোসেনের সহায়তায় গালিব মোস্তফা ও নজরুল ইসলামের বাড়িতে ভাগ করে রাখা হয় বলে পুলিশের এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নলডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে পুলিশ প্রথমে গালিব মোস্তফার বাড়িতে অভিযান চালায়। তাঁর দেখানো মতে, বাড়ির নিচতলার বাথরুমের ফলস ছাদের ওপর থেকে দুটি প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করা হয়। এসব বস্তায় থাকা পাঁচটি প্যাকেট থেকে মোট ১৯ কেজি ৭৭০ গ্রাম গাঁজা জব্দ করা হয়।
এরপর নজরুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁর দেখানো মতে, উত্তর দুয়ারির উত্তর-পশ্চিম কোণ থেকে একটি প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করা হয়। ওই বস্তায় থাকা তিনটি প্যাকেট থেকে ১৩ কেজি ৬০০ গ্রাম গাঁজা জব্দ করা হয়।
দুটি বাড়ি থেকে উদ্ধার করা গাঁজার মোট পরিমাণ ৩৩ কেজি ৩৭০ গ্রাম।
নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার জাহান বলেন, পুলিশ আলামত জব্দ করে বিধি মোতাবেক সংরক্ষণ করেছে। এ ঘটনায় এসআই (নিরস্ত্র) মো. আব্দুল মালেক বাদী হয়ে নলডাঙ্গা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১৯(গ)/২৬/৪১ ধারায় মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

