পাঁচবিবি (জয়পুরহাট): জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় বিজিবি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ টাস্কফোর্সের অভিযানে ৬৫৬ পিস ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ এক নারীকে আটক করা হয়েছে। যৌথ বাহিনীর অভিযান টের পেয়ে মূল আসামি কথিত সাংবাদিক ও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী শাহীন আলম কৌশলে পালিয়ে যান।
জয়পুরহাট ব্যাটালিয়ন (২০ বিজিবি)-এর অধিনায়কের নেতৃত্বে বুধবার ভোর রাতে উপজেলার পশ্চিম উচনা গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সীমান্তবর্তী পশ্চিম উচনা এলাকার কথিত সাংবাদিক, তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী এবং ভারতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় গোপনীয় ও স্পর্শকাতর তথ্য পাচারকারী হিসেবে অভিযোগ থাকা হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. শাহীন আলমের বাড়িতে স্থানীয় মেম্বার, ইমাম ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তল্লাশি চালানো হয়।
এ সময় তাঁর নিজ কক্ষ থেকে ৬৫৬ পিস ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, নগদ ৩ হাজার ৭৯৭ টাকা, পাঁচটি মোবাইল ফোন ও একটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
বিজিবির দাবি, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় গোপনীয় ও স্পর্শকাতর তথ্য শাহীন ভারতে পাচার করতেন এবং বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বিষয়টি এলাকার অনেকেই জানতেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ভয়ে কেউ প্রতিবাদ বা প্রতিকারের উদ্যোগ নিতে পারেননি বলেও স্থানীয়দের কেউ কেউ জানান। অবশেষে মাদক মামলায় শাহীনকে পলাতক আসামি করায় বিজিবি অধিনায়ককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন অনেকে।
অভিযানের সময় শাহীন আলম বাড়ি থেকে পালিয়ে গেলেও অভিযানস্থল থেকে তাঁর স্ত্রী মোছা. উম্মে হাবিবাকে আটক করেন যৌথ বাহিনীর সদস্যরা।
বিজিবি আরও জানায়, পলাতক শাহীন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে স্থানীয়ভাবে চাঁদা আদায় এবং ছোট ছোট গ্যাংয়ের মাধ্যমে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকার মাদক ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেন, পলাশ মিয়া ও স্থানীয় মেম্বার লাইজু মিয়ার মৌখিক অভিযোগে জানা যায়, শাহীন দীর্ঘদিন ধরে গ্যাং গঠন করে মাদক ব্যবসা করার পাশাপাশি স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করতেন।
টাস্কফোর্সের গৃহীত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পলাতক সাংবাদিক ও মাদক ব্যবসায়ী শাহীন আলমকে পলাতক আসামি করা হয়েছে। আটক তাঁর স্ত্রী উম্মে হাবিবাকে আসামি করে উদ্ধারকৃত ট্যাপেন্টাডল, নগদ অর্থ ও অস্ত্রসহ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঁচবিবি থানায় হস্তান্তর করা হবে বলে ২০ বিজিবি সূত্রে জানা গেছে।

