বায়েজিদ, পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা): কৃষকদের কাছে চড়া দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়মবহির্ভূতভাবে সার মজুত করে রাখায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ছাপড়হাটী ইউনিয়নের শোভাগঞ্জ বাজারে ‘মেসার্স আজাহার আলী’ নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় ওই প্রতিষ্ঠানের গুদাম থেকে ২০৯ বস্তা সার জব্দ করা হয়। জব্দ করা এসব সারের সরকারি মূল্য ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭০০ টাকা। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের মালিককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি বলেন, জব্দ করা সার পরবর্তীতে সরকারি মূল্যে কৃষকদের মধ্যে বিক্রি করা হবে। বিক্রির সম্পূর্ণ অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।
এর আগে সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ছাপড়হাটী ইউনিয়নের শোভাগঞ্জ বাজারে ‘মেসার্স আজাহার আলী’ নামের ওই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে সারগুলো জব্দ করা হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঈফফাত জাহান তুলি। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কৃষকদের কাছে চড়া দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়মবহির্ভূতভাবে সার মজুত করে রাখার অভিযোগে ওই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় মজুত করা ১০২ বস্তা ইউরিয়া ও ১০৭ বস্তা এমওপি সার পাওয়া যায়। পরে প্রতিষ্ঠানের মালিককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং জব্দ করা সার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার জিম্মায় রাখা হয়।
এর মধ্যে ১০২ বস্তা ইউরিয়া সারের সরকারি মূল্য ১ লাখ ৩৭ হাজার ৭০০ টাকা এবং ১০৭ বস্তা এমওপি সারের সরকারি মূল্য ১ লাখ ৭ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে জব্দ করা ২০৯ বস্তা সারের সরকারি মূল্য ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭০০ টাকা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি গণমাধ্যমকে জানান, নিয়মবহির্ভূতভাবে সার মজুত করে চড়া দামে বিক্রি ও কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ পেয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ২০৯ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কৃষকদের স্বার্থে নিয়মিতভাবে বাজার ও সার বিক্রয়কেন্দ্রে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

