বেলাল আহমদ, লামা (বান্দরবান): বান্দরবানের লামা উপজেলা পরিষদের দুইবারের চেয়ারম্যান, আধুনিক লামার রূপকার, সরকারি মাতামুহুরী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. আলী মিয়ার ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১০ সালের ২২ আগস্ট চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
তিনি ১৯২৩ সালের ১ জানুয়ারি নোয়াখালী জেলার রামগঞ্জ উপজেলার দেবনগর গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন এক খন্দকার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬২ সালের শেষ দিকে রামগড় মহকুমা প্রশাসক মো. আলী মিয়ার নেতৃত্বে ২০০ পরিবারকে বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে প্রেরণ করেন।
এ ছাড়া তিনি ১৯৭৩-৭৪ সালে বাংলাদেশে প্রথম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বৃহত্তর লামা ইউনিয়ন পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। ১৯৭৭ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি লামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
১৯৭৬ সালে তিনি লামা-ফাঁসিয়াখালী সড়ক নির্মাণকাজ, ১৯৭৯ সালে লামা থানাকে মহকুমায় রূপান্তর এবং আশির দশকে লামায় বিদ্যুতায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
১৯৮৫ সালে তিনি প্রথম লামা উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে দ্বিতীয় মেয়াদেও তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তাঁর দায়িত্ব পালনকালে লামা উপজেলায় অসংখ্য স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, পাঞ্জেগানা মসজিদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর জন্য তিনি জমিও দান করেন।
এ ছাড়া উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, ক্লিনিক স্থাপনসহ ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করে লামা উপজেলাকে আলোকিত করেন।
মৃত্যুকালে তিনি চার স্ত্রী, ১০ ছেলে, ১১ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান। জীবদ্দশাতেই তিনি ‘মানবতার সেবক’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। আজ সেই মহান ব্যক্তির ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। সাধারণ মানুষ তাঁকে শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করবে।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ শনিবার (২২ আগস্ট) কবর জিয়ারত এবং বাদ এশা মো. তৈয়ব আলীর বাসভবনে মিলাদ মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে সব আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও গুণগ্রাহীর কাছে দোয়া এবং তাঁর রূহের মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে। এতে সবাইকে অংশগ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

