আকতার হোসেন বকুল, পাঁচবিবি (জয়পুরহাট): জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌরসভার গোপালপুর মহল্লায় ড্রেনের পাশে ভাঙা টিনের ঘরে অতি কষ্টে জীবনযাপন করছেন জগদীশ ও মিরা সাহা দম্পতি।
জগদীশের জন্ম গাইবান্ধার বামনডাঙ্গায় হলেও সেলাই মেশিন মিস্ত্রির কাজের সুবাদে ১৯৭৪ সালে পাঁচবিবির মিরা সাহাকে বিয়ে করে এখানেই সংসার পাতেন। একসময় দুই ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে তাদের সংসারে সুখের অভাব ছিল না। জগদীশ মিস্ত্রির কাজ করতেন আর মিরা চাতালে শ্রমিকের কাজ করতেন।
বয়সের ভারে এখন আর কাজ করতে পারেন না জগদীশ। অসুস্থতা ও বয়সের কারণে মিরাও শ্রমের কাজ ছেড়ে দিয়েছেন। সংসারে উপার্জনক্ষম কেউ না থাকায় দুবেলা দুমুঠো খাবার জোটাতেই হিমশিম খেতে হয় এই বৃদ্ধ দম্পতিকে।
বড় ছেলে বিয়ে করে আলাদা সংসার করছেন। নিজের সংসারই চলে না, তাই বাবা-মায়েরও খোঁজ নেন না। বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে, তার সংসারেও অভাব। ছোট ছেলে প্রায় ১৫ বছর ধরে নিখোঁজ। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
তাদের এখন একমাত্র ভরসা ছোট মেয়ে। ছোটবেলায় বড়লোকের ঘরে বিয়ে দিলেও শাশুড়ির নির্যাতনে সেই সংসার টেকেনি। এখন তিনি ঢাকার একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন। প্রতি মাসে কিছু টাকা বৃদ্ধ মা-বাবার কাছে পাঠান। সেই টাকাতেই কোনোভাবে দিন পার করছেন জগদীশ-মিরা।
স্থানীয় কাউন্সিলর জগদীশকে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দিয়েছেন। তাদের নিজস্ব কোনো জমি নেই। পৌরসভার ড্রেনের পাশে অন্যের পরিত্যক্ত জায়গায় ঘর তুলে বসবাস করছেন। ঘরে বিদ্যুতের সংযোগ নেই। বর্ষা এলে ঘর ও বারান্দায় পানি ঢুকে পড়ে।
প্রতিবেশীরা বলেন, একসময় জগদীশের সুখের সংসার ছিল। এখন বয়স ও অভাবের কারণে তাদের কষ্টের শেষ নেই। সরকার বা বিত্তবানরা যদি একটু সহযোগিতা করতেন, তাহলে বৃদ্ধ বয়সে কিছুটা শান্তি পেতেন তারা।
ভাঙা ঘরের সামনে বসে আছেন বৃদ্ধ জগদীশ সাহা ও তাঁর স্ত্রী মিরা সাহা। অভাব আর অসুস্থতাই এখন তাঁদের নিত্যসঙ্গী।

