আতাউর রহমান কাজল (শ্রীমঙ্গল): বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর ১ থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালিত হয়। শিশুস্বাস্থ্যের সুরক্ষা, মাতৃদুগ্ধের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মায়েদের স্তন্যদান বিষয়ে উৎসাহিত করতে বিশ্বের ১৭০টিরও বেশি দেশে সপ্তাহব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
রবিবার (২ আগস্ট) শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন।
সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, শিশুর জীবন রক্ষা, সুস্থ শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে মাতৃদুগ্ধের কোনো বিকল্প নেই। তিনি নবজাতকের জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শিশুকে শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়ানোর এবং এরপর দুই বছর বা তারও বেশি সময় পর্যন্ত পরিপূরক খাবারের পাশাপাশি মাতৃদুগ্ধ পান করানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনা সভায় জানানো হয়, মাতৃদুগ্ধে শিশুর প্রয়োজনীয় ফ্যাট, প্রোটিন, ভিটামিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান সঠিক অনুপাতে থাকে। এতে থাকা অ্যান্টিবডি শিশুকে বিভিন্ন সংক্রমণ, ডায়রিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়। পাশাপাশি এটি শিশুর মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের সঠিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বক্তারা আরও বলেন, মাতৃদুগ্ধ শুধু শিশুর জন্যই নয়, মায়ের স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত উপকারী। নিয়মিত স্তন্যদান প্রসব-পরবর্তী সময়ে জরায়ুকে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সহায়তা করে, স্তন ও ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় এবং গর্ভাবস্থায় বৃদ্ধি পাওয়া অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি মা ও শিশুর মধ্যে গভীর মানসিক বন্ধন গড়ে তুলতেও মাতৃদুগ্ধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্বাস্থ্যকর্মী, সেবাগ্রহীতা ও অংশগ্রহণকারীরা মাতৃদুগ্ধ পান করানোর বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

