বায়েজীদ, পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা): মাথার ওপর খোলা আকাশ, আর পায়ের নিচে প্রতিনিয়ত ধেয়ে আসছে নদী। ভাঙনের শব্দে প্রতি রাতেই ঘুম ভাঙে নদীপাড়ের অসহায় মানুষের। কিন্তু তাদের এই বুকফাটা কান্না ও আকুতি শোনার যেন কেউ নেই।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের মুংলিশপুর গ্রামের কুমারপাড়ায় নদীভাঙন এখন এক চরম মানবিক বিপর্যয়ের রূপ নিয়েছে। একের পর এক বসতবাড়ি ও ফসলি জমি গ্রাস করার পর এবার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে গ্রামের চলাচলের প্রধান রাস্তাঘাটও। ফলে চরম দুর্ভোগ ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুমারপাড়া এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। ভাঙনের তীব্রতায় অনেকেই তাঁদের শেষ সম্বল বসতভিটা হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। মাথা গোঁজার ঠাঁই না পেয়ে অনেকে খোলা আকাশের নিচে কিংবা অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়েছেন। রাস্তাঘাট বিলীন হয়ে যাওয়ায় পুরো এলাকা এখন যোগাযোগবিচ্ছিন্ন। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ভিটেমাটি হারানো কুমারপাড়ার এক বাসিন্দা ক্ষোভ ও কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, নদী আমাগো সব কাড়িয়া নিছে। ঘরবাড়ি শ্যাষ, রাস্তাও শ্যাষ। এহন আমরা কই যামু, কী খামু? আমাগো এই কান্না দেখার মতো কেউ নাই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় নদীভাঙন চললেও তা প্রতিরোধ কিংবা ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।
নদীভাঙনকবলিত এই অসহায় মানুষগুলোর একটাই দাবি- ত্রাণ নয়, তারা নদীভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ চান। একই সঙ্গে বিলীন হয়ে যাওয়া রাস্তাঘাট দ্রুত সংস্কার করে যোগাযোগব্যবস্থা সচল করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন মুংলিশপুর গ্রামের বাসিন্দারা।
তা না হলে খুব শিগগিরই কুমারপাড়ার মানচিত্র থেকে আরও অনেক পরিবারের অস্তিত্ব চিরতরে হারিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

