মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হামলায় জুয়েল মিয়া (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের বড়চারা বাজার-সংলগ্ন এলাকায় এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত জুয়েল মিয়া গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর বুধাইবাড়ি গ্রামের অটোরিকশাচালক মো. কুদ্দুস মিয়ার ছেলে।
প্রাথমিকভাবে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর ও বড়চারা এলাকার কয়েকজন যুবকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধকে কেন্দ্র করেই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এলাকাবাসীর দাবি, নিহত জুয়েল সম্পূর্ণ নিরপরাধ ছিলেন এবং ওই বিরোধের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, কোনো অপরাধ বা বিরোধে জড়িত না থেকেও কেবল পরিস্থিতির শিকার হয়ে অকালে প্রাণ হারাতে হলো এক নিরপরাধ যুবককে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিকেলে জুয়েল তার এক বন্ধুর ডিমবাহী একটি গাড়িতে চড়ে আগরপুর বাসস্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছিলেন। গাড়িটি গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের বড়চারা বাজার থেকে প্রায় ১০০ গজ পশ্চিমে, পশ্চিম আব্দুল্লাহপুর যাওয়ার মোড়ে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত গাড়িটির গতিরোধ করে। পরে তারা জুয়েলকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে প্রকাশ্যে রাস্তায় এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। হামলায় গুরুতর আহত হয়ে জুয়েল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে উপস্থিত পথচারীরা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জুয়েলের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে লক্ষ্মীপুর বাজার ও বুধাইবাড়ি গ্রামে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে কুলিয়ারচর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল ও নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল এবং পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থল ও নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। হত্যার কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। দোষীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

