সর্বশেষ :
20 Oct 2026, Tue

কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের জন্য গণবান্ধব বাজেট: নাটোরে হুইপ দুলু

কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের জন্য গণবান্ধব বাজেট: নাটোরে হুইপ দুলু

মো. রাশেদুল ইসলাম (নাটোর): জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, এ ধরনের বাজেট গত ৫০ বছরে বাংলাদেশে হয়নি। ইতিহাসে আমি মনে করি, এটি একটি গণবান্ধব বাজেট। এটি জনগণের বাজেট, কৃষকের বাজেট, শ্রমিকের বাজেট এবং সাধারণ মানুষের বাজেট। শনিবার (২০ জুন) দুপুরে নাটোর সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাটোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আজাহার আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কৃষিবিদ নীলিমা জাহান, কৃষক ওসমান গণীসহ অন্যান্যরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হুইপ দুলু আরও বলেন, আমি বিশ্বাস করি, এই বাজেটে সবচেয়ে বেশি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য, কৃষি ও শিক্ষা খাতে। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এ বাজেট দেশের ৫০ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর একটি গণতান্ত্রিক সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছে। দেশের অর্থনীতি থেকে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা লুটপাট হয়ে বিদেশে চলে গেছে। সেই ভঙ্গুর অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করাতে আমাদের সবাইকে কিছু ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। সাময়িক কিছু কষ্ট হলেও ভবিষ্যতে এর সুফল পাওয়া যাবে।

বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমরা যখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছি, তখন বিশ্বজুড়ে নানা সংকট বিরাজ করছে। অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও জটিল। এমন প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেই সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, তারেক রহমান যে পরিকল্পনার কথা বলেছেন, সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করা হচ্ছে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সার, বীজ এবং সুদমুক্ত ঋণ পাবেন। কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ প্রদানের উদ্যোগও ধীরে ধীরে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

সাধারণ মানুষের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে হুইপ দুলু বলেন, শুধু কৃষক নয়, দেশের গরিব ও অসহায় মানুষকে স্বাবলম্বী করার জন্য পরিবারভিত্তিক সহায়তা কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব হবে।

কৃষকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, খাল খনন ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে খরা প্রবণ এলাকায় সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকদের জন্য ভাতা প্রদানের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিতসহ ধর্মীয় নেতাদের জন্যও ভাতার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এটি তাদের সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আমি আশা করি, আগামী কিছুদিনের মধ্যেই জনগণ এর সুফল ভোগ করতে শুরু করবে।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *