পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা): গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে সংঘর্ষে একই পরিবারের চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় খড়ের পালায় আগুন দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের বুজরুক বিষ্ণুপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- ওই গ্রামের বাসিন্দা কৃষক এমদাদুল হক, তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম, মেয়ে শিমু বেগম এবং ছেলে সুমন। তারা বর্তমানে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৃষক এমদাদুল হকের সঙ্গে একই গ্রামের কয়েকজনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ জুন রাত আনুমানিক ১টার দিকে গ্রামের আলম মিয়ার বাড়ির সামনে রাখা এমদাদুল হকের খড়ের পালায় আগুন দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এমদাদুল হক ও তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম এ ঘটনার জন্য প্রতিপক্ষকে সন্দেহ করেন।
তারা বিষয়টি নিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং মারধরের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে ওই গ্রামের সাবু মিয়ার ছেলে বুলু মিয়া, সাবু মিয়া, কাদের কাজী, সোনালী বেগম, স্বাধীনা বেগম, আয়শা বেগমসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এমদাদুল হকের বাড়ির সামনে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তি জানান, তারা কাউকে সরাসরি আগুন দিতে না দেখলেও পূর্ব শত্রুতা ও ঘটনার পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় প্রতিপক্ষের লোকজনই এ অগ্নিসংযোগ ঘটিয়েছে বলে তাদের ধারণা।
স্থানীয় সচেতন মহল এ ঘটনাকে নিন্দনীয় উল্লেখ করে বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, হতাহত কিংবা খড়ের পালায় আগুন দেওয়ার মতো ঘটনা সামাজিক সম্প্রীতির জন্য হুমকিস্বরূপ।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আনোয়ারা বেগমের ভাই শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে উল্লেখিত ছয়জনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনের বিরুদ্ধে পলাশবাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ (এজাহার) দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

