সর্বশেষ :
20 Oct 2026, Tue

লামায় সাংবাদিক কায়সার হামিদের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ

লামায় সাংবাদিক কায়সার হামিদের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ

বেলাল আহমদ, লামা (বান্দরবান): বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের রোডপাড়া এলাকায় সাংবাদিক কায়সার হামিদের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৬ জুন) রাত ৩টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে এ ঘটনা সংঘটিত হয়।

সাংবাদিক কায়সার হামিদের বাবা জানান, ভোর ৪টার দিকে প্রায় ৮-১০ জনের একটি ডাকাত দল তাদের বাড়িতে হানা দেয়। এ সময় তিনজন ডাকাত ছাদ বেয়ে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা অস্ত্রের মুখে তাকে ও তার স্ত্রীকে জিম্মি করে আলমারি ভেঙে নগদ ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, লক্ষাধিক টাকার স্বর্ণালংকার এবং একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। এ সময় দলের অন্য সদস্যরা ঘরের বাইরে অবস্থান করে পাশের ঘরগুলোর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল, যাতে কেউ বাইরে বের হতে না পারে।

সাংবাদিক কায়সার হামিদ জানান, কর্মসূত্রে তিনি সপরিবারে লোহাগাড়ার বাসায় অবস্থান করছিলেন। বাড়িতে তার বৃদ্ধ বাবা-মা ছিলেন। তাদের কাছে গরু বিক্রির নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিল। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, রাত সাড়ে ৩টা থেকে ৪টা ১৩ মিনিট পর্যন্ত আমি আজিজনগর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জকে ১৫ বার কল দিয়েছি। তিনি কোনো কল রিসিভ করেননি। পরে রাত ৪টা ১৫ মিনিটে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দিলে তারা লামা থানার মাধ্যমে আজিজনগর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেয়। আজিজনগর পুলিশ সকাল সাড়ে ৭টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। আজিজনগর পুলিশ ক্যাম্প থেকে আমার বাড়ির দূরত্ব এক কিলোমিটারেরও কম। এমন পুলিশি সেবায় আমরা হতবাক।

সাংবাদিক কায়সার হামিদ লোহাগাড়া উপজেলার দৈনিক সমকাল পত্রিকার প্রতিনিধি এবং লোহাগাড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে অবস্থিত অত্যন্ত ব্যস্ত ও জনবহুল এলাকায় এমন দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সাংবাদিক নাজিম উদ্দিন রানা তার ফেসবুক পোস্টে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, ঘটনা চলাকালে আজিজনগর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জকে অন্তত ১০ বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি; বরং বারবার কল কেটে দিয়েছেন। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের এমন উদাসীনতা ও ব্যর্থতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা চলছে।

মহাসড়কের পাশে সাংবাদিকের বাড়িতে সংঘটিত এ দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় লোহাগাড়া ও বান্দরবানের সাংবাদিক সমাজ এবং স্থানীয় সচেতন মহল তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তারা অবিলম্বে ডাকাতির সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং দায়িত্বে অবহেলাকারী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

আজিজনগর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আমিনুর রাহিম বলেন, আমরাও তো মানুষ। ভোররাতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। পরে বিষয়টি জানতে পেরে ৩০-৪০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করি।”

লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল বলেন, বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের ওই বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। অসহযোগিতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ফাঁড়ির ইনচার্জকে ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে বকাঝকা করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *