সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

লামায় আদালতের আদেশ অমান্য করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ

লামায় আদালতের আদেশ অমান্য করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ

লামা (বান্দরবান): বান্দরবানের লামা উপজেলায় আদালতের আদেশ অমান্য করে বিরোধপূর্ণ জায়গা ও পানিপ্রবাহের ঝিরিতে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। লামা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক বিলছড়ি এলাকার ইউনুস গং জোরপূর্বক স্থাপনা নির্মাণ করলে আদালতের নির্দেশে লামা থানা পুলিশ কয়েকবার নিষেধ করলেও তারা তা মানছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে প্রতিপক্ষ বাধা দিলে ওই স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে লামা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক বিলছড়ি এলাকায় অসহায় নারী জাহেদা খাতুন (৭০)-এর সঙ্গে মো. ইউনুস ও মো. জাহাঙ্গীর হোসেন গংয়ের জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে বৃদ্ধা জাহেদা খাতুন লামা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে সিআর মামলা নং-১২১/২০২৬ এবং লামা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতিপক্ষের অনধিকার প্রবেশ রোধে পিটিশন মামলা নং-৩৯/২০২৬ দায়ের করেন।

আদালতের নির্দেশে লামা থানা পুলিশ উভয় পক্ষকে বিরোধপূর্ণ জায়গায় না যেতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নোটিশ জারি করে। কিন্তু পুলিশি নিষেধাজ্ঞা ও আদালতের নির্দেশ অমান্য করে মো. ইউনুস ও মো. জাহাঙ্গীর হোসেন গং ওই জমিতে পাকা স্থাপনা নির্মাণকাজ অব্যাহত রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জাহেদা খাতুন ২৯৩ নম্বর ছাগলখাইয়া মৌজার আর/৮৯ নম্বর হোল্ডিংভুক্ত ২ একর জমির মালিক।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুলিশ নোটিশ দেওয়ার সময় বিরোধপূর্ণ স্থানে কোনো স্থাপনা ছিল না। বর্তমানে সেখানে পানিপ্রবাহের পথ বন্ধ করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। জাহেদা খাতুন বলেন, পুলিশ এলে তারা কাজ বন্ধ রাখে, আর পুলিশ চলে গেলে আবার কাজ শুরু করে।

জাহেদা খাতুনের ছেলে মো. আকরাম জানান, আমাদের প্রতিপক্ষ মো. জাহাঙ্গীর হোসেন একজন আনসার সদস্য। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসে ভাইদের নিয়ে প্রভাব খাটিয়ে কাজ করছেন। আমরা বাধা দিতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। তাদের লোকবল বেশি হওয়ায় এলাকায় কাউকে তোয়াক্কা করে না। আইনের আশ্রয় নিয়েও আমরা কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।

এ বিষয়ে মো. ইউনুস বলেন, আমরা আমাদের জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ করছি। এখানে জাহেদা খাতুনের কী?” আদালতের আদেশ মানছেন না কেন- এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি তা এড়িয়ে যান।

লামা থানা পুলিশের এএসআই মোহাম্মদ ইসমাইল হোসাইন বলেন, বিরোধপূর্ণ জায়গা নিয়ে উভয় পক্ষ ১৪৫ ধারায় আবেদন করেছে। আদালতের নির্দেশে গত ১৬ মে ২০২৬ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। উভয় পক্ষকে জায়গাটিতে না যেতে বলা হয়েছে। কিন্তু মো. ইউনুস ও মো. জাহাঙ্গীর হোসেন গং নিষেধাজ্ঞা মানছেন না। আমরা জাহেদা খাতুনকে বিষয়টি আদালতকে অবহিত করতে বলেছি।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *