সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

তালায় প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা না পাওয়ার অভিযোগ, গ্রাম পুলিশের নম্বর ব্যবহারের দাবি

তালায় প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা না পাওয়ার অভিযোগ, গ্রাম পুলিশের নম্বর ব্যবহারের দাবি

তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় এক মানসিক প্রতিবন্ধীর ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তাঁর ভাতার তথ্যের সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের এক গ্রাম পুলিশের মোবাইল নম্বর যুক্ত থাকায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি সরকারি ভাতার টাকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

ভুক্তভোগী আজিজুর ইসলাম মোড়ল (৫৭) তালা সদর ইউনিয়নের আলাদিপুর গ্রামের মৃত আফাজ উদ্দীন মোড়লের ছেলে। তিনি ২০১৯ সালের জুলাই মাসে প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।

জানা গেছে, ভাতাভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর প্রথম কিস্তিতে তিনি নগদ টাকা পান। তবে এরপর থেকে আর কোনো ভাতার টাকা পাননি বলে অভিযোগ করেন।

অভিযোগ রয়েছে, তালা সদর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ গনি শিকদারের মোবাইল নম্বর ভাতাভোগীর তথ্যের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়। ফলে প্রতিবন্ধী ভাতার অর্থ ওই নম্বরে চলে যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সাল থেকে অনলাইনের মাধ্যমে ভাতার অর্থ প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়। সর্বশেষ অর্থবছরেও যে নম্বরের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে, সেটি গনি নামে এক ব্যক্তির নম্বর বলে জানা গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত অর্থবছরে ওই নম্বর থেকে একটি এজেন্ট নম্বরে ১২ হাজার টাকা স্থানান্তরের তথ্য পাওয়া গেছে। চলতি বছরও ২ হাজার ৭০০ টাকা ওই নম্বরে গেছে বলে দাবি করা হয়।

ভুক্তভোগী আজিজুর ইসলাম মোড়ল বলেন, ভাতা চালুর পর একবার হাতে টাকা পেয়েছি। এরপর আর কোনো টাকা পাইনি। কীভাবে গনির নম্বর যুক্ত হলো, তা আমি জানি না।

আজিজুর ইসলামের মেয়ে আফছানা আক্তার বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সমাজসেবা অফিসে অভিযোগ দিয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে গ্রাম পুলিশ গনি শিকদার বলেন, আমার নম্বরে কোনো টাকা আসে না।

এ বিষয়ে তালা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কয়েক মাস আগে নম্বর পরিবর্তন করা হয়েছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখে মিলিয়ে দেখা হবে।

উপজেলা সমাজসেবা অফিসের ইউসি তৌফিক ইমরান বলেন, ছয় মাসের হিসাব পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গনি নামে একটি নম্বরে ১২ হাজার টাকা গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন, বিষয়টি জানার পর তদন্ত শুরু হয়েছে। সর্বশেষ পাওয়া নম্বরটি গনি নামে একজনের বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা বলেন, আমি এখনো অভিযোগ পাইনি। হয়তো ডাক ফাইলে রয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *